দুই দফা সময়সীমা বাড়ানোর পরে আবারও অনিশ্চিততায় আবদ্ধ রয়েছে ঢাকা–শরীয়তপুর চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্প। মোট তিনটি প্যাকেজে ভাগ করা এই প্রকল্পের অন্তত দুটির কাজ অর্ধেকেরও বেশি বন্ধ থাকার ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, ব্যবসায়ী ও চালক দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
করোনো-সদৃশ স্থবিরতা — প্রকল্প কার্যকারিতা কোথায় আটকে?
প্রকল্প এলাকায় মাটি পরিষ্কার, মেশিন ও শ্রমিকের উপস্থিতি অনুপস্থিত। ফলে অসম্পূর্ণ সড়ক ও বড় গর্তের কারণে চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকাবাসী ও পথচারীরা বলেন, যাতায়াতের পথে ধুলাবালি আর গর্তের কারণে গাড়ি–বাস চলাচলে ব্যাপক বিলম্ব হয়; বর্ষা শুরু হওয়ার পর কাদাপানির কারণে যানজট বেড়ে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।
শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন, “নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।” কর্মকর্তারা বলছেন, জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব এবং সময়মতো জমি বুঝে না পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালাতে পারছে না।
স্থানীয় প্রশাসনের বিবরণ ও ভবিষ্যৎ পথ
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, জেলা প্রশাসন যেসব জমি ইতিমধ্যে হস্তান্তর করেছে, সেসব অংশে যাত্রা সহজ করার দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। বাকি জমি পরিমাপ ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনও চলছে—যা প্রকল্পের কাজকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
প্রকল্পের মাত্রা ও অর্থায়ন
প্রকল্প কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছেন যে, এটি প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক, যা মোট ১,৬৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমান বিলম্ব শুরুর কারণে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে—অর্থ-পরিবহনে দেরি ও ব্যবসায়িক খরচ বাড়ছে।
| বিবরণ | মোট |
|---|---|
| দৈর্ঘ্য | ২৭ কিমি |
| মোট বাজেট | ১,৬৮২ কোটি টাকা |
| প্যাকেজ সংখ্যা | ৩টি |
জরুরি প্রভাব: যাত্রী ও পরিবহন খাত
স্থানীয়রা বলছেন, অসমাপ্ত অংশে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভাড়া বাড়ছে, সরবরাহ–শৃঙ্খলায় বিলম্ব হচ্ছে এবং বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষাকালে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পানিতে ডুবে গেলে পরিবহন ব্যাহত হয়, যা তাত್ಕ্ষণিকভাবে বাজারে পণ্যের দাম বাড়াতে পারে।
- প্রকল্পে শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি অনুপস্থিত — কাজ রুদ্ধ।
- মাটি বুঝে না দেওয়ার সমস্যায় সওজ ও ঠিকাদারদের মধ্যে টানাপোড়েন আছে।
- বর্ষার আগেই কাজ শেষ না হলে এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা।
সময় বাড়ানো হলে কী হবে?
সড়ক কর্তৃপক্ষ জানান, জমি সব হস্তান্তর হলে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা হলো ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে এটি তখনই বাস্তবসম্মত হবে যদি অবশিষ্ট জমি দ্রুত পরিমাপ ও হস্তান্তর করা হয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে।
এ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনের মন্তব্যগুলি প্রজেক্টের বাস্তবতা তুলে ধরে:
“নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।”
সমাধানের সম্ভাব্য দিকগুলো
প্রকল্প ত্বরান্বিত করতে কয়েকটি উপায় নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে—দ্রুত জমি হস্তান্তর নিশ্চিত করা, ঠিকাদারদের সাথে সময়সীমা সম্পর্কিত সমন্বয় বৃদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জানাশোনা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখা জরুরি যাতে চলাচলে ঝুঁকি কমে।
সরকারি এবং উপজেলা-জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয় ছাড়া এই ধরনের বড় বাস্তব অবকাঠামো প্রকল্প শিডিউল রাখা দুষ্কর। স্থানীয়রা আশা করেন দ্রুত কার্যক্রম চালু হলে জীবনযাত্রা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হবে এবং বর্ষার আগেই সড়কের অর্ধেক অংশ চলাচ্য উপযোগী করে তোলা যাবে।
এ অবস্থায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এবং প্রশাসনিক কর্তারা যদি সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেন, তবে ২০২৭ সালের উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার সম্ভাবনা ফিরে আসতে পারে—যা এলাকার মানুষের জন্য বড় রাহত হবে।