ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি চল্লিশ/তিন দিনের কর্মসূচির অংশ নয়—বরং জেলা পর্যায়ে মৎস্যচাষ, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে তিন দিনের বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
আলোচনা ও স্থানীয় কার্যক্রম
উদ্যানটি উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন দিক থেকে মৎস্যখাতের প্রয়োজনীয়তা ও করণীয় নিয়ে কথা বলেন স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য কর্মকর্তারা ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধি। জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বে বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মৎস্যখাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আলোচনায় বক্তারা বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেন:
- আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষ প্রসারিত করা।
- জলাশয় সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ নিশ্চিত করা।
- প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা ও অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বিশেষ অতিথি ছিলেন।
পোনা অবমুক্তকরণ ও জনসচেতনতা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানের মধ্যে পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। বক্তারা বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; সামাজিক সচেতনতা ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”
এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে মৎস্যজীবী, চাষি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত চাষ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মাছ উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান পড়বে।
অঞ্চলের সুযোগ-চ্যালেঞ্জ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৎস্যসম্পদ উল্লেখযোগ্য হলেও সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বক্তারা বলেন, জলাশয় রক্ষায় স্থানীয় স্তরে নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ জাল নিরুৎসাহিত করা এবং প্রজনন মৌসুমে সঠিক বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন দরকার।
| তারিখ | প্রধান কার্যক্রম |
|---|---|
| ১৬ আগস্ট | উদ্বোধন ও আলোচনা সভা |
| ১৬-১৭ আগস্ট | পোনা অবমুক্তকরণ ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম |
| ১৮ আগস্ট | সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও সমাপনী আলোচনা |
কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি মৎস্যচাষি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৎস্যখাত আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তারা প্রযুক্তি গ্রহণ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর বারবার গুরুত্ব আরোপ করেন।
মৎস্য খাতের উন্নয়ন হলে সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়বে—এমন আশায় জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয় উন্নয়নমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।
এই আয়োজনে অংশ নেওয়া মৎস্যজীবী এবং চাষিরা বলেন যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সহায়তা পেলে তারা পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বাড়াতে পারবেন। জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে তাদের বক্তব্য থেকে জানা যায়।
রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে - হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি