ভোলা জেলা প্রতিনিধি: এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভোলা জেলায় দুইটি স্কুলে শতভাগ সফলতার খবর পাওয়া গেছে। লালমোহন উপজেলার লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও জেলা সদরের ভোলা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে সমস্ত পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাফল্য
লালমোহনের হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ বছর ৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় এবং সকলেই পাস করেছে। তাদের মধ্যে ২৫ জন জিপিএ-৫ লাভ করেছেন এবং আরও ৪৮ জন এ গ্রেড পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি গত বছরও শতভাগ পাসের রেকর্ড দেখিয়েছে; সেই ধারাবাহিকতা এবছরও বজায় রাখলো।
অন্যদিকে, ভোলা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এবার প্রথমবার নিজ উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সেখানে অংশ নেওয়া ৩৬ জনই পাশ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং ১৫ জন এ গ্রেড অর্জন করেছেন।
জেলা পরিস্থিতি ও সামগ্রিক ফল
জেলায় এবারের পরীক্ষায় মোট ২২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যালয় থেকে ১৪,১৯৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে মোট উত্তীর্ণের সংখ্যা ৭,৬২৫ জন, এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ৩৪০ জন। ভোলা জেলার মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩.৭১ শতাংশ।
| শ্রেণি | সংখ্যা |
|---|---|
| অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান | ২২১ |
| মোট পরীক্ষার্থী | ১৪,১৯৬ |
| উত্তীর্ণ | ৭,৬২৫ |
| জিপিএ-৫ প্রাপ্ত | ৩৪০ |
| পাসের হার | ৫৩.৭১% |
শিক্ষকদের ভূমিকায় প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন ফলাফল প্রসঙ্গে বলেন—
“শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এ সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মান আরও উন্নত করে ভালো ফলাফল অর্জনের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”
প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা, পাঠদানের সময়সূচি, অতিরিক্ত একাডেমিক ক্লাস এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন।
জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় চিন্তা ও পরামর্শ
শতভাগ পাস পাওয়া দুটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য আনন্দের হলেও জেলাভিত্তিক সামগ্রিক পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে গ্রামীন এলাকার কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি, পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকট ও সুযোগ-সুবিধার অভাব লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার আরও উন্নয়নের জন্য জরুরি পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- অওয়াইভ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বর্ধিত করা।
- পঠন-পাঠন সুগঠিত করার জন্য সমন্বিত একাডেমিক প্ল্যান করা।
- অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সহায়তা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেওয়া।
- অতিরিক্ত ক্লাস ও পরীক্ষামূলক প্রস্তুতি শিবির আয়োজন করা।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
শতভাগ পাশের এই খবর পরিবার ও বিদ্যালয় পরিমণ্ডলে আনন্দ ও গৌরব তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। অভিভাবকরা বলেন, শিশুরা কঠোর পরিশ্রম করেছে, শিক্ষকরা রাত-দিন কাজ করেছেন—এগুলো মিলেই সফলতা এসেছে। আবার অনেক অভিভাবক আশা প্রকাশ করেছেন যে জেলায় শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেলে উচ্চশিক্ষায় যোগদানের সুযোগও বাড়বে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়েও শিক্ষা খাতে শিল্প-সংযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি বলে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ উল্লেখ করছেন। তারা বলেন, একটি বিদ্যালয়ের সাফল্য সমগ্র জেলাকে অনুপ্রাণিত করে; কিন্তু জেলা-স্তরে স্থায়ী উন্নয়নের জন্য নীতি-গঠন ও ধারাবাহিক তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।
পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আগামী শিক্ষাবর্ষে আরও বেশি শিক্ষার্থীর সফলতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ভোলা থেকে রিপোর্ট করেছেন: রেহানা পারভীন, ভোলা প্রতিনিধি, WE NEWS।