লালমোহন, ভোলা — উৎসবমুখর পরিবেশে ভোলার লালমোহনে জেলা বনবিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। মেলার উদ্বোধন স্থানীয় সরকারি বিদ্যালয় মাঠে করা হয় এবং অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”।
উদ্বোধন ও অনুষ্ঠানের আয়োজন
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত বিন সাদেক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরে অতিথিরা মেলায় অংশ নেওয়া ছয়টি নার্সারীর স্টল পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি এবং আলোচনা সভাও আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতিমা। বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী বনরক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হক। বক্তারা পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি মানুষের কমপক্ষে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। উপস্থিত ছিলেন —
- লালমোহন উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোঃ জাফর ইকবাল,
- সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল,
- পৌর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান জমাদার,
- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আরিফুল ইসলাম,
- উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন অর রশীদ,
- লালমোহন প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল আজীজ শাহীন এবং অন্যান্য স্থানীয় দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন।
মেলার সময়সূচি ও লক্ষ্য
উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের সূত্রে জানা যায়, এই মেলা আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী মেলার মূল লক্ষ্যগুলো হলো— পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষমোপণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি। বক্তারা বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গাছ লাগানোর অপরিহার্যতার ওপর জোর দিয়েছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ |
| উদ্বোধক | উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত বিন সাদেক |
| আয়োজক | উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ |
| মেলা চলবে | ৩ দিন (মোটাদি: উদ্বোধনসহ) |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
স্থানের বিভিন্ন সংগঠন ও অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেলা সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়াও স্থানীয়ভাবে গাছের চারা সরবরাহ এবং গাছরোপণের সরাসরি কার্যক্রমে সহায়তা করবে। অংশগ্রহণকারী নার্সারির স্টলগুলোতে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি প্রজাতির চারা প্রদর্শন করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর কথা অনুযায়ী, ছোট ছোট উদ্যোগগুলো সংযুক্ত হলে স্থানীয় পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে এবং গ্রামীণ জনপদে ছায়া-ছাবি ও জরুরি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করবে।
প্রাসঙ্গিক তথ্য ও পরামর্শ
আয়োজকরা বলেন, গাছ রোপণের সময় কয়েকটি বিষয় সবার মাথায় রাখা জরুরি— মাটির ধরন অনুযায়ী গাছ নির্বাচন, রোপণের পর নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা, ও স্থানীয় জলবায়ু অনুকূল প্রজাতি বাছাই। অংশগ্রহণকারীদের নির্দেশনা ছিল চারা কেনার পূর্বে স্থানীয় বন বিভাগ বা কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ নেওয়ার।
“বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”
উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ মেলায় স্থানীয় বিজ্ঞানী ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গাছ রোপণ, পরিচর্যা ও পরিবেশশিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আগ্রহী। মেলার মাধ্যমে গাছপালা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়।
ভোলা থেকে রিপোর্টিং করে জানা গেছে, আয়োজনটি স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশগত উদ্যোগে সংহতি গঠন এবং জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।