বরিশাল — সম্প্রতি বরিশাল সিটিতে ব্যাপক লোডশেডিংয়ে নগরবাসী দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে তা চাহিদার অর্ধেকেরও কম; ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ切াঘাটছে।
সরবরাহ-চাহিদার ফারাক
বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দুইটি প্রধান বিভাগে চাহিদা ও সরবরাহের অনুপাতে বড় সংকট দেখা দিয়েছে। বিভাগ-১ এর আওতাধীন এলাকায় চাহিদা ৬২ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াট। একইভাবে বিভাগ-২ এর চাহিদা ৪০ মেগাওয়াট, সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে লোডশিডিউল করে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করা হচ্ছে।
| বিভাগ | চাহিদা (মেগাওয়াট) | সরবরাহ (মেগাওয়াট) |
|---|---|---|
| বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ | ৬২ | ৩৯ |
| বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ | ৪০ | ২০ |
নাগরিকদের দুর্ভোগ ও প্রতিক্রিয়া
নগরীর বাসাবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ অনুপস্থিতি নানা ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। গভীর রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে গৃহস্থালি সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি, শিশুও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে—বেশি গরমে ঘরগুলোতে থাকা অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে দিনের বেলায় সরবরাহ বিঘ্ন হলে সাময়িক আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- গভীর রাতে লম্বা সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীসংবলিত অনেক পরিবারের আঁতকে উঠতে হচ্ছে।
- বাণিজ্যিক এলাকায় রাতের কার্যক্রমে বিঘ্ন; ই-মুদিবা ও ছোট বিপণির ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত।
- বিদ্যুৎনির্ভর শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
কারণ ও প্রশাসনের বক্তব্য
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে জেনারেশনে ঘাটতি প্রধান কারণ। তারা কক্সবাজারের এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনাকেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলীরা সরবরাহের ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।
“জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতির কারণে বরিশালের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
জনস্বার্থে দাবি ও বিক্ষোভ
লোডশেডিং নিয়ে বিরূপ পরিস্থিতি বৃদ্ধির পরই সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠন শহরে প্রতিবাদ করেছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার কর্মী ও সমর্থকরা নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে সমাবেশ করে বক্তারা অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
“লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও অন্তর্বর্তী সমাধি, বিকল্প জেনারেশন ব্যবস্থা চালু করা এবং গ্রিডে জোগান দ্রুত বাড়ানোর দাবি করেছেন।
পরবর্তী ফলাফল ও প্রভাব
নগর পরিকল্পনায় বিদ্যুতের দীর্ঘ স্থিতিশীলতা না থাকলে শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর খাতেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব দেখা দিতে পারে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার ও স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি শনাক্ত করে সমাধান নেওয়ার ওপর নগরবাসীর নজর রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, অকাল গরমের মধ্যে লোডশেডিং বন্ধ না হলে জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বড় ধরনের ক্ষতি হবে—এমন অবস্থায় ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।