সংক্ষিপ্ত পরিস্থিতি
বরিশালের নৌপথ, বিশেষ করে বরিশাল-ভোলা রুটটি স্থানীয় যাত্রী ও পণ্যের দ্রুত গমনাগমন নিশ্চিত করে। গত কয়েক দিনে এ নৌরুটে দুইটি নতুন যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি ইমানত-২ ও এমভি ইমানত-৪ যোগ করার ফলে স্থানীয় লঞ্চ মালিক সমিতি উদ্বেগভাজন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। সমিতির অভিযোগ, এসব লঞ্চের মালিক নিকটাত্মীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে রুট পারমিট পেয়েছেন।
লঞ্চ মালিক সমিতির অভিযোগ ও দাবি
লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সোমবার বরিশাল নৌবন্দর এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সভাপতি আজিজুল হক আক্কাস। তাদের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল—
- নতুন দুটি লঞ্চকে বিআইডব্লিউটিএ থেকে রুট পারমিট দেওয়া হয়েছে, যা সমিতির সদস্যদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।
- এই দুই লঞ্চ দীর্ঘ সময় একই রুটে একচেটিয়া ভাবে ব্যবসা করেছে বলে অভিযোগ; বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে তাদেরকে ফের ওই রুটে আসতে দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় মালিকদের আয়ের ক্ষতি করে।
- মালিক সমিতির মতামত না নেয়া ও প্রকৃত নিয়ম-মেনটেইন না করে পারমিট দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং দায়ী সংস্থার কাছে পুনর্বিবেচনা দাবি করেছেন।
যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে লঞ্চ মালিকরা বলেন, উল্লেখিত দুই লঞ্চের নাম এবং মালিক সংক্রান্ত তথ্যগুলো তাদের অভিযোগের প্রধান ভিত্তি। সংবাদে বলা হয়েছে যে লঞ্চদুটির মালিক ভোলার দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের এক নেতা খায়রুজ্জামান ফয়সাল। এছাড়া তারা জানান যে লঞ্চ দুটি ভাড়া নেওয়ার মাধ্যমে রুটে চালানো হচ্ছে—ভাড়া নেন ভোলার যুবদল নেতা ইয়ারুল ইসলাম লিটন এবং ভোলার জেলা বিএনপির সদস্য-সচিব রাইসুল আলমের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| লঞ্চের নাম | এমভি ইমানত-২, এমভি ইমানত-৪ |
| বলপ্রয়োগ/তত্ত্বাবধানে সম্পর্কিত ব্যক্তিরা | খায়রুজ্জামান ফয়সাল (প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী) |
| রুট | বরিশাল-ভোলা |
| মালিক সমিতির অবস্থান | রুট পারমিট বাতিল না হলে আন্দোলন |
দুই পক্ষের বক্তব্য
লঞ্চ মালিক সমিতি বলেছে, বরিশাল-ভোলা রুটে সাধারণত প্রায় ২০টি লঞ্চ নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করত এবং প্রতিটি লঞ্চের চলাচলের সময় ব্যবধান ছিল প্রায় ৪৫ মিনিট। তাদের দাবি, নতুন দুইটি লঞ্চ যুক্ত হওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে তাঁদের আয় হ্রাস পাচ্ছে।
"দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল না হলে আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলেছেন লঞ্চমালিকেরা।"
অন্যদিকে, ভাড়া নেওয়া হিসেবে নাম প্রকাশ করা লিটন বলেছেন, তিনি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোক্তার হোসেন যৌথ ব্যবসা করার জন্য লঞ্চ দুটি ভাড়া নিয়েছেন এবং সমস্ত কাগজপত্র বৈধ থাকায় পারমিট পেয়ে ১৫ দিন আগে থেকে রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করা হয়েছে—এমন বক্তব্য সংবাদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর বরিশালের নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. সলেমান জানান, মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে রুট পারমিট দিতে হবে—এমন কোনো লিখিত বিধান নেই। তবে সংস্থাটি এই বিতর্ক নিয়ে স্থানীয় মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মধ্যে সমন্বয় করাতে পারে বলে আশা করা যায়।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল
বরিশাল-ভোলা রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন স্থিতিশীল রাখার জন্য স্থানীয় মালিকদের প্রত্যাশা থাকে রুট বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও সম্মতিতে ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। বর্তমানে পারমিট বিতর্ক অগ্রসর হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দ্বীপাঞ্চল ও ভ্রমণপথে নিয়োজিত সাধারণ যাত্রীরা, যাদের ভাড়া, সেবার মান ও যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। একটি দীর্ঘখালাস ও আন্দোলনই নৌপথে বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও যাতায়াত নিরাপত্তা দুর্বল করবে।
পাঠকেরা আশা করতে পারেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ ও স্থানীয় মালিক সমিতি দ্রুত আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে দেবে যাতে বরিশাল-ভোলা নৌপথে ন্যায্য ও সীমিত প্রতিযোগিতা বজায় থাকে এবং সাধারণ জনগণের সুবিধা অটুট থাকে।
রিপোর্টার: বরিশাল প্রতিনিধি, WE NEWS