নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী-কে স্মরণ করে আয়োজন করা হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা-২০২৬। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে স্থানীয় সংগঠন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ থেকে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা তাদের লেখা ও চিত্রকর্ম ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে ডাকযোগে পাঠাবে।
প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ও স্মরণ
প্রতিযোগিতা প্রতি বছরই তানভীর ত্বকীর স্মরণে আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা শিল্প ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ পেয়ে থাকে এবং স্থানীয়ভাবে সৃজনশীলতার মূল্যায়ন করা হয়। এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে কলম ও আঁকিবুকির প্রতি উৎসাহ জাগাতে এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে।
বিভাগ ও নির্ধারিত বিষয়াবলি
বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিযোগিতার বিভাগভিত্তিক বিষয় ও শব্দসীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
- ক বিভাগ (পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি) — রচনা বিষয়: "আমার স্কুল" (সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দ)
- খ বিভাগ (অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি) — রচনা বিষয়: "শিশু নির্যাতন চাই না" (সর্বোচ্চ ৬০০ শব্দ)
- গ বিভাগ (কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) — রচনা বিষয়: "ত্বকীকে নিয়ে একটি রচনা" (সর্বোচ্চ ১৫০০ শব্দ)
| প্রতিযোগিতা | শ্রেণি/গোষ্ঠী | বিষয় | শব্দসীমা/মাপ |
|---|---|---|---|
| রচনা | পঞ্চম–সপ্তম | আমার স্কুল | ৩০০ শব্দ |
| রচনা | অষ্টম–দশম | শিশু নির্যাতন চাই না | ৬০০ শব্দ |
| রচনা | কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় | ত্বকীকে নিয়ে একটি রচনা | ১৫০০ শব্দ |
| চিত্রাঙ্কন | শিশু–তৃতীয় শ্রেণি | উন্মুক্ত | কার্টিজ পেপার (১০ x ১৫ ইঞ্চি) |
| চিত্রাঙ্কন | চতুর্থ–ষষ্ঠ | উন্মুক্ত | কার্টিজ পেপার (১০ x ১৫ ইঞ্চি) |
| চিত্রাঙ্কন | সপ্তম–দশম | ত্বকীর প্রতিকৃতি | কার্টিজ পেপার (১০ x ১৫ ইঞ্চি) |
চিত্রাঙ্কনের নির্দেশ ও জমা নীতিমালা
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় মাধ্যম ও কৌশল উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ছবি অবশ্যই কার্টিজ পেপারের চার ভাগের এক ভাগ আকারে (১০ x ১৫ ইঞ্চি) হতে হবে। চিত্রাঙ্কনকারীদের অনুরোধ করা হয়েছে, ছবির পেছনে স্পষ্টভাবে ইংরেজিতে তাদের নাম লিখতে।
জমা দেওয়ার ঠিকানা ও অন্যান্য নির্দেশ
রচনা ও চিত্রকর্ম পাঠানোর ঠিকানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে: ‘দ্বাদশ জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা-২৬’, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ, ২৭ এস কে রোড, নারায়ণগঞ্জ’। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খামের ওপর স্পষ্ট অক্ষরে নাম, ঠিকানা, শ্রেণি ও ফোন নম্বর লিখে পাঠাতে হবে এবং সঙ্গে একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি যুক্ত করতে হবে।
পুরস্কার ও স্মারক
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সম্মান হিসাবে প্রথম ১০ জনকে সনদ, বই ও ক্রেস্ট দেওয়া হবে। বিশেষভাবে প্রথম স্থান অধিকারীকে দেওয়া হবে ত্বকী পদক-২০২৬। এছাড়া বিজয়ীদের লেখা ও চিত্রকর্ম সংকলন আকারে স্মারক হিসেবে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব
এ ধরনের প্রতিযোগিতা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেখালেখি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে শিশুরা সমাজগত চিন্তা-চেতনা গড়ে তুলতে পারে; বিষয়গুলো—বিশেষ করে ‘‘শিশু নির্যাতন চাই না’’—শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এছাড়া কলাম-সহ স্মারক প্রকাশ শিক্ষার্থীদের কাজকে বাইরের পাঠকসমাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সময়সীমা ও নির্দেশাবলী মনোযোগ দিয়ে পড়ে উপযুক্ত ফরম্যাটে কাজ পাঠানোর অনুরোধ রাখছে আয়োজক সংস্থা। নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষাব্যবস্থা জন্য এটি অংশগ্রহণের একটি সুযোগ বলে বিবেচিত হবে।