নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুরে চলতি মামলায় তিন অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ.
মামলার সারমর্ম ও ঘটনার বিবরণ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত শেখানা—আসলে নাম মো. ওয়াজেদ, তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ (এআইইউবি)-র কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে নারায়ণগঞ্জ নগরের দেওভোগ এলাকায় মাজারের সামনে পথরোধ করে ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ায় তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়; পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
আদালত কার্যক্রম ও সাক্ষ্যপ্রমাণ
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী ছিল, এর মধ্যে ২৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন এবং আদালত মামলার দলিল-পত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তিনেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়প্রাপ্তদের পরিচয় ও পুরোনো অভিযোগ
আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়া তিন অভিযুক্ত হলেন— অনিক, আকাশ ও চান্দি বাবু. মামলায় সনদের তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। আইনজীবীর বিবরণে বলা হয়:
- অনিকের বিরুদ্ধে মোট ৫টি মামলা রয়েছে।
- আকাশের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে; এর মধ্যে ছিনতাই, মাদক ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
- চান্দি বাবুর বিরুদ্ধে পুরোনো একটি হত্যাসহ অন্যান্য অভিযোগও থাকায় তার নামেও অতীত মামলা রয়েছে; ২০২০ সালে নগরের দ্বিগুবাবুর বাজার এলাকায় ভোরে একটি ছিনতাই-কেন্দ্রিক হত্যার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল।
পরিবার ও আইনজীবীর বক্তব্য
নিহতের বাবা হাজী মোহাম্মদ আলম পারভেজ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, রায় কার্যকরের জন্য যে প্রক্রিয়া আছে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা অনুসরণ করতে হবে।
“দণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি” — নিহত শিক্ষার্থীর বাবা হাজী মো. আলম পারভেজ
স্থানীয় প্রভাব ও আইন-শৃঙ্খলা প্রশ্ন
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—বিশেষত শিক্ষার্থী ও পথচারী নিরাপত্তা নিয়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পথে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাস ও ছিনতাই–ঘটনা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, পুলিশি তৎপরতা কেমন ছিল—এই প্রশ্নগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে। আদালতের রায় হলেও সামাজিক নিরাপত্তা ও অপরাধনিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি ও স্থানীয় ইন্টেলিজেন্স র্যাব-সহ অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ের দাবি করছেন কমিউনিটি নেতারা।
প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ধাপ
মৃত্যুদণ্ডাদেশের পরে রক্ষিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে ভাগ্য নির্ধারণ হবে—আপিল বা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ রয়েছে। ওই অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে এখন আপিল কার্যক্রম শুরু হতে পারে, এবং তার উপরেই চূড়ান্ত শ্রেণিবদ্ধ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
| উপাদান | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | মো. ওয়াজেদ, এআইইউবি ছাত্র |
| তারিখ (ঘটনা) | ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ (ছুরিকাঘাত), মৃত্যু ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| রায় | ১৭ আগস্ট ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত — মৃত্যুদণ্ড |
| আদালত | জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নারায়ণগঞ্জ (বিচারক আবু শামীম আজাদ) |
| আসামি | অনিক, আকাশ, চান্দি বাবু |
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে এই মামলার রায় নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা, জনসাধারণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে নতুন করে আলোচ্য করেছে। আপিল বা উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত রায় কার্যকর হবে না—তবে পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচারের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।