নারায়াণগঞ্জে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ ও ইতোমধ্যে স্থাপিত মিটার প্রত্যাহার, বাতিল এবং অতিরিক্ত বিল প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে নারায়াণগঞ্জ প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে গণঅনশন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শুরু হয় সকাল ১০টা এবং চলা ছিলেন দুপুর ১টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, দোকান মালিক সমিতির নেতারা এবং মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবীরা।
অনশনের আয়োজন ও বক্তব্য
অনশন কর্মসূচি আয়োজিত করে নারায়াণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জাগু, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ ও জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. শাহজাহান সহ অন্যান্য নেতারা।
অনশনে বক্তব্যকালে আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের জন্য 'গলার কাঁটা' হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বিল নির্ধারণে প্রয়োগ করা স্ল্যাবের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি পূরণ না হয়।
“প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের 'গলার কাঁটা' হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ল্যাবের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচগুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।”
বক্তাদের দাবিসমূহ
অনশন থেকে প্রকাশিত প্রধান দাবিগুলো ছিল—
- নতুন করে কোন স্থানে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা বন্ধ করা হোক।
- ইতোমধ্যে যেখানে মিটার স্থাপিত হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করে পূর্ববর্তী মিটার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হোক।
- অতিরিক্ত নেওয়া বিলসমূহের তদন্ত করে নিরস্ত করে ভোক্তাদের ফেরত দেয়া হোক।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, যদি পাড়া-মহল্লায় প্রিপেইড মিটার বসানোর চেষ্টা করা হয় তবে তা জনগণ প্রতিহত করবে। ছিলেন তার দাবি, বিদ্যুৎ গ্রাহকরা যেন ‘নিরাপদ ও স্বচ্ছ’ বিলিং সার্ভিস পায়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতি
প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে কয়েকশ সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন এবং উপস্থিতদের পানি পান করিয়ে গণঅনশন ভেঙে দেন—এই ঘটনাটি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক অবসান চিহ্নিত করেছে।
প্রতিবাদী সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিদ্যুৎ ও বিল সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। অনশন থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে তারা গণ-আন্দোলনে গিয়ে শুধু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
পদক্ষেপ ও পরবর্তী কর্মসূচি
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, তারা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাসহ আইনি সহায়তা গ্রহণের প্রস্তুতি নেবে। এছাড়া ভবিষ্যতে বড় পরিসরের মানববন্ধন বা পৌর এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে সশস্ত্র আন্দোলনের ঘোষণা তারা পুনরায় দিতে পারেন বলে অনশনস্থলে শোনা যায়।
| ইভেন্ট | সময় | অংশগ্রহণকারীর ধরন |
|---|---|---|
| গণঅনশন | সকাল ১০টা — দুপুর ১টা | স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, দোকান মালিক, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিক |
এদিকে, কর্তৃপক্ষের এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি—এটি অনশনস্থলে উপস্থিতদের অভিযোগের অংশ।
পাঠকের জন্য করণীয় তথ্য
প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত যে কোনো অসঙ্গতি বা অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র মনে হলে নাগরিকরা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন—
- নিজেদের বিল বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করে প্রয়োজনে প্রিন্ট করে রাখুন।
- স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন অথবা উপরে বর্ণিত নারায়াণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- সরবরাহকারী দফতরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করুন এবং প্রতিলিপি সংগ্রহ করুন।
অনশন থেকে সংগঠকরা আরও জানিয়েছেন, তারা এই ইস্যুতে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান এবং প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করবেন।