সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে নারায়াণগঞ্জে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে জেলা সদর ভূমি অফিস ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। পরিদর্শনে দেখা যায় সময়মতো অফিসে উপস্থিত না থাকলেও অনেকের হাজিরা খাতায় আগেভাগে স্বাক্ষর করা আছে—যা প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়।
পরিদর্শন ও অসন্তোষ
প্রতিমন্ত্রী সার্কেল ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ঘুরে দেখার সময় দাপ্তরিক কার্যক্রম, নথি সংরক্ষণ ও সেবার মান পরিমাপ করেন। তিনি কর্মকর্তাদের সময়ানুবর্তিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সতর্ক করে বলেন যে জনসেবা কোনো দয়া নয়, বরং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব।
“কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত না থাকলেও অনেকের হাজিরা দেওয়া হয়ে গেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা-বিষয়ক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন কিছু নারী কর্মকর্তা একসঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন; তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক রেশ
পরিদর্শনে পাওয়া অনিয়মের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সদর ও ফতুল্লা সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ মোট ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, সরকারি সেবা গ্রহণকারীর ভোগান্তি দূর করতে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
- পরিদর্শিত কার্যালয়: নারায়াণগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়
- প্রধান অভিযোগ: সময়মতো উপস্থিত না থাকা ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর
- গ্রহণকৃত ব্যবস্থা: ১৮ জনকে শোকজ নোটিশ
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা
অফিসে অনিয়ম ও হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর সাধারণ মানুষের সেবা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং আস্থাহানির কারণে সমস্যা তৈরি করতে পারে—এমনই মন্তব্য স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে শোনা গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য শৃঙ্খলা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শনকালে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে মানসিকতার পরিবর্তনেরও ওপর জোর দেন; তিনি বলেন দাপ্তরিক কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে যাতে সেবা গ্রহণকারীরা সুফল পান। এই আহ্বান কার্যকর করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে প্রশিক্ষণ, নজরদারি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে—সেগুলো ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
সংক্ষিপ্ত তথ্যপঞ্জি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পরিদর্শনকার্য | নারায়াণগঞ্জ সদর এসি (ভূমি) অফিস ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল |
| প্রতিমন্ত্রী | ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন |
| শাস্তিমূলক নোটিশ | ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী (সহকারী কমিশনাররা মধ্যে) |
এই ঘটনাটি স্থানীয় সরকারি সেবাকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে নেওয়া প্রথম সারির পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে জেলা প্রশাসন ও ভূমি দফতর কী ধরনের পুনর্গঠন বা নজরদারি কার্যক্রম ঘোষণা করে তা স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পাঠকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের দপ্তরসমূহ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আশা করা যাচ্ছে; প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও ফলাফল বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।