নাগরিক ফোরামও বলেন—প্রিপেইড মিটার গ্রাহকের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে
নারায়াণগঞ্জে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও পরবর্তীতে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নারায়াণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম। সমাবেশে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বর্তমান মিটার ব্যবস্থা ও বিল প্রণালীর স্বচ্ছতার অভাবে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অর্থগত অনিয়ম হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং তা দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সমাবেশে সংগঠনের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “
বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই কিসের অগ্রিম বিল? দেশের এখনো এত খারাপ অবস্থা হয়নি যে অগ্রিম বিল নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, মিটার স্থাপনকারীরা স্থানীয় হিসেবে বিবেচিত হলেও, গ্রাহকদের সম্মতি ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ করে পুরোনো মিটার খুলে নতুন প্রিপেইড মিটার বসানো গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এই দাবিগুলো সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
| দাবি | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| প্রিপেইড মিটারের কার্যক্রম বন্ধ | বর্তমানে نصب করা প্রিপেইড মিটার বাতিল, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া বসানো মিটার সরিয়ে আগের ডিজিটাল মিটার ফেরত দেওয়ার দাবি। |
| অতিরিক্ত বিল বাতিল | অবৈধ উচ্চ স্ল্যাবের কারণে আনা অতিরিক্ত বিল প্রত্যাহার, ৫০০ ইউনিটের নিচের স্ল্যাব বাতিল, মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ প্রত্যাহারের দাবি। |
| সরকারি বিবৃতি প্রত্যাশা | জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মিথ্যাচার বন্ধের দাবি। |
মিছিল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়াণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্মুখে শেষ হয়। মিছিল ও সমাবেশে নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের নেতারা ও সাধারণ বাসিন্দারা অংশ নেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।
সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:
- ১২ থেকে ২৪ আগস্ট: গণসংযোগ
- ২৫ আগস্ট: গণঅবস্থান
- ১ সেপ্টেম্বর: ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে গণঅবস্থান
মাহবুবুর রহমান মাসুম সমাবেশে আরও বলেন, “প্রি-পেইড মিটার স্থাপন থেকে ডিপিডিসি সরে না আসলে আমরা হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেব; আমরা জেলে যাব, মামলার আসামি হব, তারপরেও প্রি-পেইড মিটার লাগতে দেব না।”
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
সংগঠনের নেতা ও অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, বিদ্যুতের বিল ও মিটারের বর্তমান ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের ওপর আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের অভিমত— মিটার রিচার্জ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট কেটে নেয়া হচ্ছে, ফলে গ্রাহক বাস্তবে অধিক খরচ বহন করছেন।
আবেদনকারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ডিপিডিসি-কে সরাসরি এই অভিযোগের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের থেকে কিভাবে এগোতেচাই তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নারায়াণগঞ্জের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন খরচে বিদ্যুতের বিল বড় ধরনের প্রভাব ফেলে—এই প্রেক্ষাপটে মাঠে নামা নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি এবং তাদের ঘোষিত কর্মসূচি স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনে নতুন জোর যোগ করতে পারে। আইনগত ভালো ধারনা ও সুষ্ঠু আলোচনার মাধ্যমে অভিযোগের নিরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত ইত্যাদি প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্যেই আগামী দিনগুলোতে এই লড়াইটির পরিণতি নির্ধারিত হবে।