গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারী ফ্যামিলি কার্ড তথ্যসংগ্রহ ও সুপারভাইজার নিয়োগকে নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের এক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখে এবং অভিযুক্তদের অপসারণের দাবি করেন।
বিক্ষোভ ও দাবি
পৌর শহরের বাহিরগোলা জামে মসজিদ মোড় থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে থামে। সেখানে কেন্দ্রীয় ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আন্দোলনকারীরা ইউএনও অফিসে গিয়ে প্রধান ফটকও তালাবদ্ধ করে। বিক্ষোভ চলাকালে বক্তারা ‘‘অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানবো না’’–ধরনের নানা স্লোগান দেন এবং ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন।
কেন অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি হিসেবে চলা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহের কাজে নিয়োগ দেয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এমনদের, যাদের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা বলেন, পছন্দসই প্রার্থী নিয়োগ করে প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের মত অভিযোগ পেলে পুরো প্রকল্পের ভরসা ও উপকারভোগী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্দোলনের মূল দাবি
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার বা অপসারণ করা।
- নিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং পাওয়া ফলাফল বাতিল করা।
- যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবি পূরণ না করা হয় তাহলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি।
প্রতিবাদী বক্তব্য ও প্রস্তুতি
বিক্ষোভে উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়োগ যদি স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে না করা হয় তবে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই শুরু থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
ইউএনওর প্রতিক্রিয়া
সুন্দরগঞ্জের ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে তার জ্ঞানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং ‘‘যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন’’। ইউএনও আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া পরীক্ষা-নির্ভর ছিল এবং ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।
“ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডগুলোই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানালে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রশাসনের সম্ভাব্য ব্যবস্থা
বিক্ষোভের পর উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা দফতর উভয়ই অভিযোগ ও ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে—অপেক্ষা করা হবে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবির বাস্তবায়ন দাবি করেছেন এবং না হলে অধিকতর কর্মসূচি জানানোর তাগাদা দিয়েছেন।
| বিষয় | অবস্থা/দাবি |
|---|---|
| নিয়োগ প্রক্রিয়া | অনিয়মের অভিযোগ ও তদন্ত দাবি |
| অফিস তালা | উপজেলা সমাজসেবা ও ইউএনও অফিস প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে |
| সম্ভাব্য ফল | ২৪ ঘন্টার মধ্যে না মানলে আন্দোলন জোরদার |
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের সেবা নিশ্চিত করার অন্যতম হাতিয়ার। তথ্যসংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উপকারভোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন—এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে। তাই এমন অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের মত।
এই ঘটনার পর সরকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলোই স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, স্বচ্ছতা ও আর্থ-সামাজিক ন্যায্যতা বজায় রাখতে কোন পদক্ষেপ নেবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।