রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) অধিভুক্ত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম (সিমন) মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে জাহেদুল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা আইসিইউে রাখার পরামর্শ দেন।
শুরুতে আইসিইউ শয্যার অভাবে সমস্যা দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে এবং পরে আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, রোগীর অবস্থা বিবেচনায় সড়কপথে ঢাকায় নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ—এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
“জাহেদুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকেরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া তাঁকে স্থানান্তরে সম্মতি দেননি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎপরতা ও চিকিৎসা সংযোগ
আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম ও উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাময়ের সক্রিয় সহযোগিতায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও ঢাকায় আইসিইউ ব্যবস্থার তদারকি করা হয়েছে। ঢাকায় নেওয়ার সময় উপাচার্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানা গেছে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পরিবার ও ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েই স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানীতে রোগীর জন্য নিবন্ধিত ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের আইসিইউয়ের ব্যবস্থা করতে উপাচার্য সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে সূত্রে জানানো হয়েছে।
- রোগীর পরিচিতি: জাহেদুল ইসলাম, আইবিএ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বাড়ি চট্টগ্রাম।
- ঘটনাক্রম: শনিবার বেলা ১১টা — অসুস্থতা, ঢুকানো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ; রোববার সকাল — এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর।
- প্রশাসনের ভূমিকা: আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা এবং এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা।
স্বাস্থ্যসেবার পরিপ্রেক্ষিত ও স্থানীয় প্রভাব
স্ট্রোক দ্রুত ব্যবস্থাপনা ও উন্নত নার্সিং সহ বিশেষায়িত ওর্টিক কেয়ার সেবা দাবি করে। যে রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত আইসিইউ–র ব্যবস্থা নাও পাওয়া যেতে পারে, তাদের সময়োপযোগী অত্যাধুনিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে জটিলতা বাড়তে পারে—এই বাস্তবতা রাজশাহীতে এই ঘটনায় উঠে এলো।
স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের জরুরি সেবায় দ্রুত সরবরাহ না হলে রোগীর স্থানান্তর প্রয়োজন হতে পারে। অথচ, এধরনের দ্রুত ও বিশেষায়িত স্থানান্তরের জন্য অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রয়োজন, যা সব পরিবারের পক্ষে সহজলভ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অর্থায়ন ও উদ্যোগ নিয়েছে বলে বলা হচ্ছে, কিন্তু এই ধরনের ব্যবস্থা সব প্রতিষ্ঠানে সহজলভ্য নয়—এটি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার একটি বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে।
পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য
স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে মুখ ঝাঁকুনি বা অস্বাভাবিকতা, কথা বলার অক্ষমতা, বাহু বা পায়ে দ্রুত দুর্বলতা বা অবচেতনতা, হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা ইত্যাদি। কারও কাছে এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত najortho চিকিৎসা সেবা নেয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা বা জীবনহানির ঝুঁকি থাকে।
| টাইমলাইন | ঘটনা |
|---|---|
| শনিবার, বেলা ১১টা | জাহেদুল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি |
| রোগাবস্থা—সর্বশেষ | অবস্থা সংকটাপন্ন, আইসিইউ প্রয়োজনীয়তা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর (রোববার সকাল) |
বর্তমানে রোগীর চিকিৎসা ও অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় বা পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সংবাদ এখনও আকারে প্রকাশ করা হয়নি। হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজে স্ট্রোক প্রতিরোধ ও জরুরি সেবা ব্যবস্থার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা শুরু হওয়া উচিত—বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবার তদারকি ও জরুরি ব্যবস্থা কেমন, তা পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।
WE NEWS, রাজশাহী থেকে রিপোর্ট।