শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনার দুদিন পর শুক্রবার রাতেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং স্থানীয়রা বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের কথা জানিয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে জমিজমা ও এলাকায় আধিপত্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতের দিকে ওই এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে প্রতিপক্ষের অন্তত ৩০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষরা বাড়ি থেকে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
পূর্বঘটনা ও মামলার অবস্থা
ঘটনার পূর্বাপর তথ্য বলছে, সোমবার সন্ধ্যায় এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়; ওই সংঘর্ষের এক পর্যায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছিল। ওই সংঘর্ষে রেজাউল শিকদারের পক্ষের সমর্থক মান্নান সরদার (৭০) নিহত হন। নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন জাজিরা থানায় আওয়ামী লীগ নেতা তমিজ খাঁকে প্রধান আসামি করে মোট ৮৭ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ এ মামলার এজাহারভুক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে, এই তথ্যও পাওয়া গেছে।
পুলিশি বক্তব্য ও স্থানীয়ের আক্রোশ
“গ্রামে আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে।”
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ এই কথা বলেন এবং জানান, এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেনি। প্রশাসন ও law enforcement সূত্র বলছে, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
স্থানীয়দের দাবির সারমর্ম
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ককটেলের গুঁড়ির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং একের পর এক বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেলে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তমিজ খাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম জানান, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় ও ঘরের জিনিসপত্র লুট করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, হামলাকারীরা কেবল প্রাপ্তিযোগ্য বস্তুই নেয়নি, বরং গরু-ছাগলও নিয়ে গেছে।
- স্থান: মুলনা ইউনিয়ন, চরধুপুর চরকান্দি, জাজিরা, শরীয়তপুর
- রাতের বিস্ফোরণ: ২০–২৫টি ককটেল (স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী)
- ভাঙচুর-লুটপাট: কমপক্ষে ৩০টি বাড়ি আক্রান্ত বলে অভিযোগ
- মামলা: নিহতের ছেলে ৮৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছে; পুলিশ আটজন গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে
প্রভাব ও স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জেলার এই সংঘর্ষ ও পরবর্তী হামলায় স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—অধিকাংশই বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং গবাদি পশু পালন এখন ঝুঁকিতে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহত্তর বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে; তবে ঘটনাস্থলে ঘুরে তথ্যমতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল না করায় আইনি প্রক্রিয়া নিরুপায় নাও পর্যন্ত যেতে পারে।
| বিষয় | সংখ্যা / অবস্থা |
|---|---|
| রাতের ককটেল বিস্ফোরণের সংখ্যা | ২০–২৫টি (স্থানীয়দের দাবি) |
| ভাঙচুরপ্রস্তাবিত বাড়ি | প্রায় ৩০টি |
| নিহত | মান্নান সরদার (৭০) |
| মামলায় অভিযুক্ত | ৮৭ জন (মামলা দায়েরকৃত); আটজন গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে |
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কী ব্যবস্থা নেবে, সেই দিকে স্থানীয়রা লক্ষ রাখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি হচ্ছে দ্রুত বিচার ও মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হোক, আর যে কোন পক্ষের দ্বারা নতুন করে সশস্ত্র হামলা হলে তা দমনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
WE NEWS, শরীয়তপুর আরও অনুসরণ করবে এবং পুলিশি নথি ও আদালতের চলমান প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে পরবর্তী আপডেট প্রকাশ করবে।