সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে গোসল করতে নেমে মারা গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর জেলার বাসিন্দা ছাত্র মাইনুল ইসলাম রিফাত (২১)। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাতিকুল ইসলাম ঘটনাক্রমে পর্যাপ্ততার সঙ্গে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সময়কালে কী ঘটেছিল
স্থানীয় ও ফ্রি-ল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, রিফাত তার দুই-তিন বন্ধুর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সাদাপাথরে বেড়াতে যান। তারা শনিবার সকাল থেকে গ্রামে করে স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছান এবং বেলা ১১টার দিকে নদীতে গোসল শুরু করেন। কয়েক মুহূর্ত পর নদীর তীরে থাকা অন্যরা রিফাতকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণার কথা জানান। কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উসমান গণি ঘটনাস্থল ও প্রক্রিয়াধীন পুলিশি পদক্ষেপের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন—
‘সাদাপাথরে ঘুরতে এসে একজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
পরিবার ও শিক্ষাজীবন
মৃত রিফাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাতিম মিয়ার ছেলে এবং নবীনগর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুবৃন্দ—প্রাথমিক সূত্রে জানায়, তিনি গ্রামের পরিবারের সঙ্গে হলেও কলেজ পড়ুয়া জীবন করছিলেন। তার বন্ধুরা ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসকরা এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন।
স্থানীয় ব্যবস্থা ও অনুসরণযোগ্য প্রক্রিয়া
কোম্পানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে মরদেহ আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর, ময়নাতদন্ত বা নিহতের পরিবারের অনুরোধ অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদিও সূত্রে ময়নাতদন্ত সংক্রান্ত স্থায়ী সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই, ওসি বলেন পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলছে।
- ঘটনার সময়: শনিবার, বেলা আনুমানিক ১২টা
- পরিচয়: মাইনুল ইসলাম রিফাত, বয়স ২১, নবীনগর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্র
- প্রাথমিক প্রত্যক্ষিক তথ্য: নদীতে গোসল করে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার—হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা
পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর: নিরাপত্তা ও সচেতনতা
সাদাপাথর কোম্পানীগঞ্জ জেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র, যেখানে বিশেষ করে গরমকালে স্থানীয় ও অনুপস্থিত পর্যটকরা ভিড় করেন। নদীর তীব্র প্রবাহ, হঠাৎ গভীরতা বদলানো বা তার তলায় লুকিয়ে থাকা ঝুঁকির স্থানসমূহ থাকলে সেগুলি পর্যটকদের জন্য বিপদসঙ্কেত হতে পারে। এই ধরনের দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন অর্গানাইজার বা সবিরকম দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা জোরদার করা জরুরি বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
পরামর্শ ও ঝুঁকি প্রশমন
যদিও এই প্রতিবেদনে ঘটনার কারন নির্ধারণে চিকিৎসা বা ফরেনসিক রির্পোটের উল্লেখ নেই, তবু সাধারণভাবে নদীতীরবর্তী বেড়াতে গেলে কয়েকটি বিষয় লক্ষ রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়:
- পানি থেকে দূরে দূরে না নামা; সাঁতার না জানলে গভীরে প্রবেশ না করা।
- সঙ্গী ছাড়া একা পানিতে না নামা।
- স্থানীয়দের পরামর্শ ও সতর্কতা মানা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা।
- জরুরি অবস্থায় স্থানীয় দমকল/পুলিশ/স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা উপলব্ধ রাখা।
আগামী করণীয়
কোম্পানীগঞ্জ থানার ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে এখন মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, ময়নাতদন্ত (যদি পরিবার বা কর্তৃপক্ষ চায়) এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাই আগামী এই ঘটনার পরবর্তী কাজ। স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তা বিধিগুলো পুনরায় যাচাই করে পর্যটকদের জন্য সতর্কতা জারি করতে পারেন।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষাসংগঠন শোকাহত। কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে; পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করা হবে প্রাসঙ্গিক সূত্র থেকে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী।