সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন এই দুই মৃত্যুর ফলে বিভাগে রোগজনিত মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮।
বর্তমান পরিস্থিতি ও হাসপাতালে ভর্তি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী একই সময়সীমায় বিভাগীয় বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ১০২ জন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের হাসপাতালে মোট ৩৩৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বিভাগীয় কর্মকর্তারা বলছেন, রোগের প্রকৃতি এবং উপসর্গে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তবে প্রাথমিকভাবে বলছেন ‘লগ ফেজ’ বা সবচেয়ে সংক্রামক সময় ইতোমধ্যে পার হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
মৃতদের ভৌগোলিক বন্টন
এ পর্যন্ত যে ১৪৮ জন মারা গেছেন, তাদের স্থানীয় সংখ্যা নিম্নরূপ:
| জেলা | মৃতের সংখ্যা |
|---|---|
| সিলেট | ৫৭ |
| সুনামগঞ্জ | ৫৮ |
| মৌলভীবাজার | ১৩ |
| হবিগঞ্জ | ২০ |
কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণতা
স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই টিকার আওতায় না থাকার কারণে ঘটনার তীব্রতা বেশি। অঞ্চলগুলোর মধ্যে বিশেষত সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাতে না পারায় সেখানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
- টিকা কমিশনের শীর্ষস্থানীয় ঘাটতি: অধিকাংশ নিহতরা টিকার বাইরে ছিলেন।
- সেবা পৌঁছানো সংক্রান্ত সমস্যা: হাওর ও সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সীমিত।
- অসচেতনতা ও কুসংস্কার: রোগনিরোধী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিক্রিয়া ও উদ্যোগ
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যদিও বিভাগের বিবরণে কর্মসূচিগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ নেই, তথ্যে বলা হয়েছে রোগের প্রকৃতি ও উপসর্গে পরিবর্তন আবশ্যকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিরোধক পরামর্শ
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যসেবার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত সেবা পৌঁছে না গেলে রকমফেরী উন্নতি খারাপ হতে পারে। সাধারণ জনগণের জন্য যেসব বিষয় জরুরি:
- যদি শিশুর জ্বর, সর্দি বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয় দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
- টিকার রেকর্ড যাচাই করুন; নিষ্ক্রিয়তা বা কুসংস্কারের কারণে টিকা মিস হলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে টিকা গ্রহণ করান।
- সিমেন্টেড জল বা অপরিচ্ছন্ন পানির ব্যবহারে সতর্ক থাকুন — হাওরাঞ্চলে পরিষ্কার পানি নিশ্চিতের উদ্যোগ নিন।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ না নিলে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই আক্রান্ত এলাকা ও ওষুধ সঙ্কট মোকাবিলায় কাজ দ্রুত করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বর্তমানে রোগসম্পর্কিত নির্দিষ্ট নাম বা ভাইরাসের শনাক্তকরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত ল্যাব ফলাফল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ থেকে পরবর্তী তথ্য পাওয়া মাত্র আপডেট দেওয়া হবে।