সিলেটে ওয়াকফ এস্টেট বিবাদে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা বেড়ে সার্জারি ছাড়াও হাসপাতালে ভর্তি
মোগলাবাজারের সিলাম শেখপাড়া এলাকায় ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা ও সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ বহু মানুষ আহত; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত শক্তি মোতায়েন।
সিলেট মহানগরের মোগলাবাজারের সিলাম শেখপাড়া এলাকায় শুক্রবার দুপুরে ঘটেছে তীব্র সংঘর্ষ, যা দুই ঘণ্টা ধরে স্থায়ীভাবে চলার ফলে এলাকাজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। জানানো হয়েছে, সিলাম এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার সংলগ্ন ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ ও দোকান কোটা ও দানবাক্সের অর্থ পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল এবং শুক্রবার সেই দ্বন্দ্ব ভেড়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আহতদের পরিস্থিতি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টার আগে জুমার নামাজের সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর শাব্দিক বিবাদ দাঁড়ানোর মধ্যে ইট-পাটকেল, দেশীয় অস্ত্র ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশের সদস্যেরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয়পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। স্থানীয়ভাবে আহত সদস্য ও সাধারণ লোকজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
আহত পুলিশ: মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ ৭ জন।
আহত সাধারণ মানুষ: উভয়পক্ষ মিলিয়ে আনুমানিক ২৫–৩০ জন (প্রাথমিক তথ্য)।
চিকিৎসা কেন্দ্র: আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
“সিলেটে ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে দুইপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ ৭ জন পুলিশ সদস্য ও উভয়পক্ষের অন্তত ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন।”
আইনি ও প্রশাসনিক পটভূমি
স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকফ এস্টেটটি পরিচালনা ও এর অধীনস্থ বিপুল সম্পত্তি নিয়ে শেখপাড়া এলাকার দুইপক্ষের মধ্যে পুরোনো বিরোধ রয়েছে। সূত্র জানায়, গত ২৯ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষ এক নাইন-সদস্য কমিটি অনুমোদন করে, যেখানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্যকে সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি করা হয়। একই সময়ে মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লি এবং অন্যান্য ব্যক্তি-পরিচয়ে কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত-যোগ্য একটি বিষয় হলো ওই কমিটির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে করা চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহ আব্দুল মান্নান এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। পরে ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট অনুমোদিত সেই কমিটিকে বহাল রেখে কেবল মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেন এবং আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। আদালতীয় ওই সিদ্ধান্ত ও এলাকার পুরনো বিরোধের টানাপোড়েনই স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনের করণীয়
ঘটনার ফলে চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যানচলাচল বন্ধ হওয়ায় এলাকাবাসীর বাঁধা পড়েছে — ব্যবসা-বাণিজ্য, সড়কপরিবহন ও আশপাশের মানুষজনের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে শান্তি ফেরানো হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্তরের উপর ভিত্তি করে দায়িত্বশীলদের করণীয় স্পষ্ট: স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে পরিস্থিতি তদন্ত করে দ্রুতভাবে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে, আহতদের সুষ্ঠু চিকিৎসা-সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা ও দখল-দাবির বিষয়টি দ্রুত আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্পষ্ট হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে শালিশ ভিত্তিক বা সংঘর্ষমূলক সমাধান গ্রাস না করে।
বিষয়
প্রাথমিক তথ্য
আহত (প্রাথমিক)
প্রায় ৩৫–৪০ জন (পুলিশসহ)
প্রধান আহত পুলিশ
ওসি মো. মনির হোসেন ও ৬ জন পুলিশ সদস্য
চিকিৎসা কেন্দ্র
দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা এবং প্রশাসন যে পদক্ষেপ নেবে তার উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে এই ধরনের সহিংসতা পুনরাবৃত্তি হবে কি না—তার ওপর। স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির ক্ষতি রোধের জন্য দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করা হচ্ছে।
হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
⚡WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন