সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ফলাফল থেকে জানা যায় সামগ্রিক পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, যা গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গতবছরের হার ছিল ৬৮.৫৭ শতাংশ, অর্থাৎ এক বছরে পাসের হার ১০.২৪ শতাংশপয়েন্ট কমেছে।
ফলাফল ও প্রধান সংখ্যাগুলো
বোর্ড যেখানে এবার মোট ৮৯,০৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে, তাঁদের মধ্যে পাশ করেছেন ৫১,৯৫৭ জন এবং ফেল করেছেন ৩৭,১২২ জন। সামগ্রিক হিসেবে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩,৮৩৬ জন—যা গত বছরের ৩,৬১৪ জনের তুলনায় ২২২ জন বেশি। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৩,৬০৮ জন, মানবিক বিভাগে ১২০ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পারফরম্যান্স
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। মানবিক বিভাগের পাসের হার মাত্র ৪৮.১৮ শতাংশ, যখন বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০.৩২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৪.০৩ শতাংশ। বোর্ডের জেলায় পারফরম্যান্স নিম্নরূপ—সিলেট জেলা ৬৩.৭৯%, মৌলভীবাজার ৫৭.৭১%, সুনামগঞ্জ ৫৬.৯৩% এবং হবিগঞ্জ ৫৬.৯২%।
| বিভাগ/জেলা | পাস হার |
|---|---|
| সামগ্রিক | ৫৮.৩৩% |
| মানবিক | ৪৮.১৮% |
| বিজ্ঞান | ৮০.৩২% |
| ব্যবসায় শিক্ষা | ৬৪.০৩% |
| সিলেট জেলা | ৬৩.৭৯% |
| মৌলভীবাজার | ৫৭.৭১% |
| সুনামগঞ্জ | ৫৬.৯৩% |
| হবিগঞ্জ | ৫৬.৯২% |
যোগ্য কারণ — পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মন্তব্য
ফল প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন ফলের প্রধান কারণ হিসেবে দুই দিক তুলে ধরেন—একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে উল্লেখ করেন। তাঁর সাক্ষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা এবার "ক্লিন ও ক্লিয়ার" পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, যা ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
“এবার মন্ত্রণালয়ের অর্ডার ছিল, প্রতিটা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানোর। সে অনুযায়ী সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ফলে এবার শিক্ষার্থীরা ক্লিন ও ক্লিয়ার পরীক্ষা দিয়েছে। আমার মনে হয়, সেই মোতাবেক ফলাফল আসছে।”
তবে অধ্যাপক বিলকিস স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি পুরোনো বছরের পরীক্ষাকে অস্বীকার করছেন না; বরং তার পর্যালোচনায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যতালিকা অনুযায়ী পারফরম্যান্সই এসেছে। তিনি বিশেষভাবে ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা এবং দক্ষ শিক্ষক সংকটকে খারাপ ফলের মুখ্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রভাব ও চিন্তার বিষয়
একদিকে সামগ্রিক পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ পড়ুয়াদের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি আরও বণ্টিত পারফরম্যান্স ইঙ্গিত করে—কিছু শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে ভালো করেছে, অন্যদিকে বিস্তৃত অংশের পারফরম্যান্স নীচুতে নেমে গেছে। বিশেষত মানবিক বিভাগের বড় অংশ ফেল করেছে, যা ওই শাখার শিক্ষার গুণগত মান তথা শিক্ষক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
- ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা: বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন এই দুই বিষয়ের পরীক্ষা-প্রস্তুতি অনেকের জন্যই অপর্যাপ্ত ছিল।
- শিক্ষক সংকট: দক্ষ ও প্রস্তুতকৃত শিক্ষক না থাকায় ফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
- পরীক্ষা পরিবেশে স্বচ্ছতা: সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে চুরি-প্রবণতা কমতে পারে; তবে এটির সরাসরি প্রভাব কীভাবে পাসের হারকে নকশা করেছে—এটি дальнейшем বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
কী করা যেতে পারে
বোর্ড ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে আগামী দিনে নিম্নলিখিত কার্যক্রমগুলো বিবেচনা করতে বলা হচ্ছে—শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ, বিশেষ করে মানবিক বিভাগের কাছে লক্ষ্যভিত্তিক শেখানোর ব্যবস্থা, ইংরেজি ও গণিতে অতিরিক্ত টিউটোরিয়াল, এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক শক্তি বাড়ানো। স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা মনে করেন শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নির্ণয় করে লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিলে ফল দ্রুত বদলাতে পারে।
ফল প্রকাশের সঙ্গে সাথে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কোথাও উৎসবের মেজাজ থাকলেও সামগ্রিকভাবে উদ্বেগ ও আত্মমূল্যায়নের ডাক বেশি। শিক্ষা বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা ফল বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ৯টি, গতবার ছিল ৭টি। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল ধরা পড়েনি।
স্থানীয়ভাবে এই ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলোকে সামনে এনেছে—যথাযথ শিক্ষক সরবরাহ ও বিষয়ভিত্তিক গাইডলাইন কবে এবং কীভাবে কার্যকর হবে, সেটাই এখন প্রধান প্রশ্ন।