সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় এক বাসায় এক গৃহকর্মীসহ দম্পতি—মোট তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার পর এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক নর—বাবুল মিয়া (৪০)। তিনি একই এলাকার রাজবাড়ী আক্তার মিয়া কলোনির মৃত নূর মিয়ার ছেলে ও পেশায় রংমিস্ত্রি ও মাঝখানে কসাইয়ের কাজও করতেন।
ঘটনার সারমর্ম ও পুলিশি দাবিসমূহ
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাবুল ওই বাড়িতে ঢুকে সেখানে কাজ করা গৃহকর্মী তাহমিনা (১৮) নামে এক কিশোরীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে গৃহকর্মীকে ছুরিকাঘাত করে। এরপর শব্দ শুনে বাড়ির ভাড়া মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০) ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) বাইরে এসে বাধা দিতে গেলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে বাবুল। পরে সে ঘটনাাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশে থাকা লোকজন ও পুলিশ খবর পেয়ে গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান চালায়।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছেন, “ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে এবং ঘটনাস্থল সংলগ্ন একটি ঝোপঝাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”
“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে ওই বাড়িতে কাজ করত। তাহমিনা তাকে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকায়। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে।”
পুলিশি উদ্ধার ও সত্যতা যাচাই
পুলিশ রোববার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকা নম্বর ১১১ নং বাড়ি থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুস সাত্তার ছিলেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একজন উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। পুলিশ বলেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত হাতিয়ার উদ্ধারের জন্য পাশের ঝোপঝাড়ে অভিযান চলছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আক্রান্ত পরিবারের তথ্য ও প্রভাব
প্রাথমিক খোঁজে জানা যায়, নিহত দম্পতির চার সন্তান; তাদের মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে এবং দুইজন আমেরিকায় বসবাস করেন। এলাকাবাসী ও পরিচিতরা বলছেন, মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রায়নগরের নিজ বাড়িতেই থাকতেন এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।
- ঘটনার সময়: বুধবার সকাল সাড়ে নয়টা (প্রাথমিক তথ্য)।
- নিহত: আব্দুস সাত্তার (৯০), সুরাইয়া বেগম (৭৬), তাহমিনা (১৮)।
- গ্রেপ্তার: বাবুল মিয়া (৪০) — প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ
স্থানীয় সমাজে এঘটনা যথেষ্ট দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে—বিশেষত বৃদ্ধ ও একক বসবাসকারী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফিল্ম, নিপীড়নের পূর্ব ইতিহাস বা পূর্বঘটনার কোনো চিহ্ন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনারের কথায়, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক আলামত মিলে যে রূপরেখা দেখা যাচ্ছে, তাতে ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি জড়িত থাকার পূর্্বানুমান শক্ত হয়েছে। তবে আইনগতভাবে নির্ধারণ হবে তদন্ত শেষে, বিজ্ঞ আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা বলছেন, এমন বর্বর ঘটনা এলাকায় বিরল। প্রতিবেশীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন—বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। অপরদিকে রাজনৈতিক বা সম্প্রদায়ভিত্তিক কোনো প্রেক্ষাপট আছে কি না—এমন কোনো ইঙ্গিত警方 ততক্ষণ পর্যন্ত জানায়নি।
| নাম | বয়স | সম্পর্ক |
|---|---|---|
| আব্দুস সাত্তার | ৯০ | বাড়ির মালিক |
| সুরাইয়া বেগম | ৭৬ | বাড়ির মালিকের স্ত্রী |
| তাহমিনা | ১৮ | গৃহকর্মী |
আশপাশের মানুষের অভিযোগ, গৃহকর্মী-নিয়োগ ও তদারকিতে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে দ্রুত এবং যুক্তিযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি আদালতে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হবে।
এই মামলার পরবর্তী আপডেটগুলো সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ ও আদালত কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী সংবাদ সংগ্রহ করে পাঠানো হবে।