সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম (হ্যান্ড-ফুট-মাউথ/রুবেলা প্রাসঙ্গিক) সন্দেহে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১০২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বর্তমান রোগীসংখ্যা ও হাসপাতালে বণ্টন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে মোট ৩৩৫ জন হামের সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে—১১৪ জন, এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে—১০৪ জন। রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে ১৩ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজে ৩৮ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ৫জন চিকিৎসাধীন। বিভাগীয় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সেও সন্দেহভাজন রোগী রয়েছেন।
| হাসপাতাল/প্রতিষ্ঠান | চিকিৎসাধীন রোগী (সংখ্যা) |
|---|---|
| শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল, সিলেট | ১১৪ |
| সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ | ১০৪ |
| রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ | ১৩ |
| পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ | ৩৮ |
| নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতাল | ৫ |
| অন্য জেলা/উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র | বিভিন্ন |
সাম্প্রতিক প্রবণতা ও মোট আংশ
অর্থাৎ, একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগীর মামলায় ল্যাবরেটরিতে হাম নিশ্চিত হয়নি; তবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০২৫। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সন্দেহভাজন ও পরীক্ষায় নিশ্চিত—উভয় হিসাব মিলিয়ে বিভাগে হাম-সংক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ১৪৮।
জেলা অনুযায়ী মৃতের বণ্টন হলো: সিলেটে ৫৩, হবিগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারে ১২ এবং সুনামগঞ্জে ৫৭। পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে এখন পর্যন্ত বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা হলো ১০, যা জেলা ভিত্তিতে সিলেট ৪, হবিগঞ্জ ৪, মৌলভীবাজার ১ ও সুনামগঞ্জ ১।
হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টার ভর্তি সূচি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ১০২ রোগীর মধ্যে:
- শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল: ৩২ জন
- ওসমানী মেডিকেল কলেজ: ১৯ জন
- রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ: ২ জন
- পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ: ৩৮ জন
- মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল: ১১ জন
স্থানীয় স্বাস্থ্যপ্রশাসন ও জনগণের করণীয়
স্বাস্থ্য বিভাগ খবরের মাধ্যমে রোগীদের তথ্য প্রকাশ করলেও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও জনসচেতনতা বাড়াতে হাসপাতালে ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন। সাধারণ সতর্কতা ও সুরক্ষামূলক প্রক্রিয়া প্রয়োগে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
এক্ষেত্রে সচেতন থাকার কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ:
- হাত ধোয়া ও প্রাথমিক স্যানিটেশন বজায় রাখা।
- রোগীর কাছে অনাবশ্যক ঘনkontakt কমানো এবং ভিড় এড়িয়ে চলা।
- সন্দেহভাজন উপসর্গ দেখা মাত্র নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করা।
পটভূমি ও ভবিষ্যত পথনির্দেশ
সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত এবং সন্দেহভাজন—উভয় ধরেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরের শুরু থেকে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত ১,০২৫ রোগীর তথ্য ও মোট মৃত্যুর পরিসংখ্যান স্থানীয় স্বাস্থ্যের উপর চাপকে জানায়। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ওয়ার্ডের ভর্তিভার নিত্যনতুন ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পরীক্ষা করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রোগ পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করেন, তাহলে স্থানীয়ভাবে রোগপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখায় সহায়তা পাওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য সঠিক তথ্যবিনিময় ও জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
WE NEWS সিলেট থেকে জেলা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাম্প্রতিক আপডেট অনুসরণ করা হবে; যে কোনো নতুন ঘোষণার সঙ্গে পাঠককে জরুরিভাবে অবহিত করা হবে।