সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু এবং বিভাগীয় বিভিন্ন হাসপাতালে একই সময়ে নতুন করে মোট ১০৮ রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে বুধবার (১৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বর্তমান চিকিৎসাধীন ও শনাক্তের পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯ জনে। একই রিপোর্টে উল্লেখ আছে, সপ্তাহান্তের ২৪ ঘণ্টায় কোনো নতুনভাবে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি; তবে সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০৮ জন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৭ জনে। হাসপাতালে বিভাজন অনুযায়ী রোগীদের সংখ্যা নিম্নরূপ:
| হাসপাতাল/কেন্দ্র | চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা |
|---|---|
| শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল (সিলেট) | ১৩২ |
| এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | ৯৯ |
| রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | ১৭ |
| নর্থ ইস্ট হাসপাতাল | ৬ |
| সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল | ৩৬ |
| বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (হবিগঞ্জ) | ২ |
| হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল | ১০ |
| মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল | ১৫ |
গত ২৪ ঘণ্টার ভর্তি বিবরণ
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়া ১০৮ রোগীকে জেলা ও প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। নতুন ভর্তিদের বিভাজন ছিল:
- শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল — ৩৫
- এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল — ৪৮
- রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল — ৬
- নর্থ ইস্ট হাসপাতাল — ২
- মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল — ১৫
- বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স — কিছু রোগী ভর্তি
মৃত্যুর বিবরণ ও স্থানীয় প্রভাব
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুটির বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রতনপুর এলাকায়। চার মাস বয়সী এই শিশুটি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বছরের শুরু থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৯৮৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের মধ্যে রয়েছে সিলেটে ৩২০, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। রিপোর্টে উল্লেখ, হবিগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যসেবায় যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখা দেয়
এই পরিস্থিতি থেকে উঠে আসে হাসপাতালভিত্তিক চাপ ও সঠিক শ্রেণিবিভাগ ও আইসোলেশন ব্যবস্থা বজায় রাখার গুরুত্ব। দ্রুত ঊর্ধ্বগতিতে সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যার লোকসান, ওভারক্রোডিং ও স্টাফ-শিফট পরিকল্পনায় সমন্বয় প্রয়োজন।
ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক উপকরণ, দ্রুত রোগ নির্ণয়ের সুবিধা এবং টিকাদানের শক্ত প্রণালী বজায় রাখাও এখন গুরুত্বপূর্ণ। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে বিশেষ করে শিশু ও শিশুসম্পর্কিত যত্ন নিয়ে পরিবারগুলোকে সাবধান করাতে হবে।
আপনি কি করবেন—প্রাত্যহিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ
- সদ্যজনিত জ্বর, হাঁচি-কাশি বা শরীর খারাপ হলে শিশু বা পরিবারের সদস্যকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখান।
- হাসপাতালে গেলে মসৃণ প্রবেশ ও পৃথকীকরণ ব্যবস্থা কি আছে তা জেনে নিন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ মেনে চলুন।
- পার্শ্ববর্তী শিশুদের টিকাদান রেকর্ড পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে পরামর্শ নিন।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্যে ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগের আরও বিস্তারিত নির্দেশিকা বা আপডেট পেলে তা পাঠকের সঙ্গে ভাগ করা হবে।