রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ২৪৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে। এ তথ্য বিমান সংস্থার জনসংযোগব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার ধারাবাহিকতা ও সময়রেখা
বিমানের সূত্রে জানা যায়, উড়োজাহাজটি কানাডার টরোন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে ঢাকা উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। আট ঘণ্টার পর ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণের জন্য রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে নামায়। ফ্লাইট জোরাজুরিক প্রস্তুতি সত্ত্বেও বিমানটি সেখানে থেকে উড়ে যেতে পারেনি কারণ যান্ত্রিক ত্রুটির সৃষ্টি হয়। পরে ঢাকা থেকে বিমানের প্রকৌশলী দল পাঠিয়ে উড়োজাহাজটি ওড়ার উপযোগী করা হয়।
| ঘটনা | সময় (স্থানীয়/বাংলাদেশ সময় উল্লেখ) |
|---|---|
| টরোন্টো থেকে উড্ডয়ন | গুন্ডস্তরিতে — স্থানীয় সূত্র (বৃহস্পতিবার বিকেল ৫:১৮) |
| জরুরি অবতরণ রোম | টরোন্টো ছাড়ার ~৮ ঘণ্টা পর (স্থানীয়) |
| রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছাড়ে | শনিবার রাত ১১টা (রোম সময়) = রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা |
| ঢাকায় অবতরণ | রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা |
যাত্রী ও বিমান সংস্থার প্রতিক্রিয়া
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইটটি পরবর্তীতে রোম থেকে উড়তে বাধ্য হয় এবং ঢাকা থেকে পাঠানো প্রকৌশলী দল উড়োজাহাজটির ত্রুটি দূর করে। বিমানটির ধরন ছিল বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার।
“স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টা) বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রোম ছাড়ে। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় ফ্লাইটটি 안전ে ঢাকায় অবতরণ করে।” — বোসরা ইসলাম, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উড়োজাহাজটিতে মোট ২৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং তাদের ভোগান্তির কথা সংবাদে উঠে এসেছে। বিমান কর্তৃপক্ষের পাঠানো প্রকৌশলী দল উড়োজাহাজটি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে উড্ডয়নের উপযোগী করেন।
- ফ্লাইট নম্বর: বিজি-৩০৬
- যাত্রীসংখ্যা: ২৪৭
- বিমান ধরন: বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার
- রোমে আটকে থাকার সময়: প্রায় ৪০ ঘণ্টা
স্থানীয় প্রভাব ও অগ্রসর ওয়ার্ক
ঢাকায় ফিরে আসা যাত্রীদের নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করা হলেও দীর্ঘ সময় বিমান আটকে থাকার ফলে তাদের ভোগান্তি, সংযুক্ত পরিষেবায় বিলম্ব এবং বিমানের অনুষঙ্গী সময়সূচ্যে ব্যাঘাত ঘটেছে। এমন ঘটনায় বিমান স্টাফ ও যাত্রী উভয়ের নিরাপত্তা ও সেবার মান বজায় রাখতেই সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ত্রুটির কারণ নির্ণয় করে পুনরায় কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিমানের এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে—বিশেষত দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার সময়ে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে পরবর্তী বৈধ পদক্ষেপ ও টেকনিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ না করা পর্যন্ত বিস্তারিত কারণ জানা সম্ভব নয়।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার অবতরণকারীদের মধ্যে কোনও গুরুতর আহত বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি—এ তথ্য বিমান সংস্থার দেয়া প্রতিবেদনে বলা আছে। সংস্থার নিশ্চয়তা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা যাত্রী সহযোগিতার ধরণ নিয়ে অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠলেও এপর্যন্ত সংক্ষিপ্ত এ ঘোষণা ছাড়া অন্য বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি বিমান পরিবহন সেক্টরের নিয়মনীতি ও তত্ত্বাবধানে কড়াকড়ি বৃদ্ধি এবং বিমানের যান্ত্রিক নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে আরও প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান তুলেছে—বিশেষত দীর্ঘ রুট ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে।