ফেনীতে চলতি বছরের প্রথম সাতে মাসে এলাকায় ১০০টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে শহর-গ্রাম মিলিয়ে লক্ষাধিক গ্রাহক অল্প-বর্ধিত সময়ের জন্য নয়, অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বিদ্যুতের ব্যবস্থাহীনতায় পড়েছে। এই চুরি ব্যাপকভাবে কৃষি, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজকর্মকে ব্যাহত করেছে এবং প্রতিস্থাপনে ব্যয় বাড়ায় গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
বিভাগভিত্তিক চুরি ও প্রভাব
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী চুরির পরিমাণ উপজেলাভিত্তিকভাবে ভিন্ন। সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৫৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এছাড়া ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৩৬টি, পরশুরামে ৩টি, সোনাগাজী উপজেলায় ২টি ও দাগনভূঞায় ১টি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়া সংস্থা জানিয়েছে।
| উপজেলা/অঞ্চল | চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার |
|---|---|
| ফেনী সদর | ৫৮ |
| ছাগলনাইয়া | ৩৬ |
| পরশুরাম | ৩ |
| সোনাগাজী | ২ |
| দাগনভূঞা | ১ |
| মোট | ১০০ |
চোরাচালানের পদ্ধতি ও ক্ষতি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার কয়েলই চোরদের প্রধান লক্ষ্য। সাধারণত রাতের অন্ধকারে নিস্তব্ধ ও জনবসতি থেকে দূরে থাকা ট্রান্সফরমারগুলোকে টার্গেট করা হয়। চোরেরা ট্রান্সফরমার খুলে তামা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতব অংশ সরিয়ে নেয়, বাকি অংশ সেখানে ফেলে রাখে।
ট্রান্সফরমার চুরি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকরা নতুন ট্রান্সফরমার বসানো না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকেন। গরমের মৌসুমে পানির পাম্প, সেচ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে; ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘরোয়া কাজকর্মও বহুটা বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ানির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আর্থিক বোঝা: কে দেবে খরচ?
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায় বিভিন্ন কেবি ক্ষমতার ট্রান্সফরমারের দাম আলাদা:
- ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার — প্রায় ৫৩ হাজার টাকা
- ১০ কেভিএ — প্রায় ৮৩ হাজার টাকা
- ১৫ কেভিএ — প্রায় ১ লক্ষ টাকা
- ২৫ কেভিএ — প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ট্রান্সফরমার প্রথমবার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য গ্রাহকদের তার মূল্য-এর ৫০% দিতে হয়। একই ট্রান্সফরমার দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো মূল্যই গ্রাহকদের বহন করতে হয়। ফলে ঝুঁকির বেশি এলাকায় পুনঃচুরি হলে গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে—এটি স্থানীয়দের কথার ভিত্তিতেই পরিষ্কার।
“ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন বসানো না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকরা বিদ্যুৎবিহীন থাকেন; এতে গরমকালে দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতি বেড়ে যায়।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য সমাধান
স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণত নির্জন স্থানে স্থাপনকৃত ট্রান্সফরমারগুলোই লক্ষ্য হয়; তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে সমস্যা কমবে না। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উচ্চমূল্যের যন্ত্রাংশ রিকভারি ও তামার চোরচক্র মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা চাচ্ছে।
তা সত্ত্বেও বাস্তবে কীভাবে দ্রুত প্রতিস্থাপন হবে, এবং চুরি প্রতিরোধে কে দায়িত্ববান হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ট্রান্সফরমার স্থাপনের নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি, দ্রুত মেরামত ও সম্ভব হলে জনবহুল স্থানে পুনর্বিন্যাসসহ বিধিনিষেধ জরুরি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
ফেনীর গ্রাহক ও প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে দ্রুত তদন্ত, দোষীদের দমন ও ক্ষতিপূরণ নীতি পরিস্কার করা যেন সাধারণ মানুষ অনাবশ্যকভাবে অতিরিক্ত অর্থ বহন করতে না পড়ে।
ফেনী থেকে প্রতিবেদক, WE NEWS