সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের এইচএসসি ও সমমান রসায়ন ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট মো: শুকুর আলীর বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ২১ জন শিক্ষার্থী কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে বদলি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
শিক্ষার্থীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার সকালে চলা ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় রসায়ন বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ছাত্রীদের উপস্থিতি চিহ্নিত করতে বলে তাদের শরীরে সরাসরি স্পর্শ করেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে কেউ বলছেন, পরীক্ষণের সময়ই 'হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর' দেখানোর অজুহাতে ছাত্রীদের শরীরের সংবেদনশীল স্থানে হাত দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
“ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট আমাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার কথা বলে সবার শরীরে টাচ করেছেন। স্যার থাকা অবস্থাতেও টাচ করেছেন, স্যার চলে যাওয়ার পরও চেষ্টা করেছেন। আমরা নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছি,”
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই আচরণ ও অর্থ আদায় ছিল নিয়মবহির্ভূত এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলেজ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহিদুল হাসান বলেন, অভিযোগটি জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযুক্ত ল্যাব কর্মচারীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আদিনাথপুর সরকারি কলেজে বদলি করে পাঠানো হয়েছে। অধ্যক্ষ তার বক্তব্যে বলেছেন, “আমরা বিষয়টি জানার পরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। তাকে ইতোমধ্যে বদলি করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু তো আমরা পারি না।”
কেবল বদলি করা সিদ্ধান্ত দিয়েই অভিযোগ দায়েরকারীরা সন্তুষ্ট নন; তারা তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাচ্ছেন। অভিযোগে শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্ম ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও ক্ষোভ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সিরাজগঞ্জের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছাত্রীদের দাবি, এই ধরনের আচরণ স্বাভাবিকভাবে সহ্য করা যায় না এবং শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলেজ প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা নির্দেশনা চেয়েছেন—কীভাবে ভবিষ্যতে পরীক্ষা চলাকালে নিরাপত্তা এবং আচরণগত মান বজায় রাখা যাবে।
- লাভ করা লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- পরীক্ষার হলে পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- শিক্ষার্থী রক্ষায় স্পষ্ট আচরণবিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ঘোষণা
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
একটি সরকারি কলেজে পরীক্ষার হলে এমন অভিযোগ উঠা শিক্ষার্থীদের মনোবল ও তাদের পরিবারের ভরসাকে প্রভাবিত করে। বিশেষত এমন পরিস্থিতিতে যেখানে ছাত্রীরাও ভয়ে মুখ খুলতে সংকোচ বোধ করতে পারে, বিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সম্মত পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্লেষকরা মনে করেন।
| পদক্ষেপ | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযোগকারী | ২১ জন ছাত্রী (লিখিত অভিযোগ) |
| অভিযোগের মাঝে | অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ও জনপ্রতি ১০০ টাকা আদায় |
| কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ব্যবস্থা | অভিযুক্তকে বদলি |
ঘটনাটি কেবল কলেজেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সহকর্মীদের আচরণ ও পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন উপস্থাপন করে।
পরবর্তী করণীয়
অভিযোগকারীরা প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত নজরদারি। একই সঙ্গে তারা চেয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য আচরণবিধি স্পষ্টভাবে প্রচার ও মেনে চলার নিশ্চয়তা।
এ ঘটনার ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে; তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমে জানানো হবে।