সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার পাইকোশার লাহিড়ীবাড়ী এলাকায় সশস্ত্র নয়—তবুও নির্মম কায়দায় ডাকাতি ঘটেছে। গামছা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের বাড়িতে মঙ্গলবার রাতের কোনো এক পর্যায়ে অনধিকার প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাতের নিদ্রায় থাকা বাড়ির গৃহবধূকে হাত-মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে এবং দুই শিশুকে ভীতি দেখিয়ে ঘরের আলমারি ফাঁপিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতেই পরিবার ঘুমিয়ে ছিল। দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। ঢুকে পড়ার পর একজন মহিলা শরিফা বেগমের গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে টানতে থাকেন; এতে তিনি চেতনাহীন হয়ে যান। পরে গামছা ও স্কচটেপ দিয়ে তার হাত-মুখ বেঁধে রাখা হয়।
ঘরের অন্য সদস্যরা—দুই শিশুসন্তান—ভয়ে কাঁপতে থাকলে একদল ডাকাত তাদেরকে ভয় দেখায় এবং আরেকজন আলমারি খুলে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র বের করে নেয়। ডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর শিশু দুটি পানিতে মাথায় ঝরিয়ে মা যে চেতনে ফিরেছে, তা স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিমান ও ক্ষতির তালিকা
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী তারা প্রায় সাড়ে চার ভরি সোনা, সাত ভরি রূপা, নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং ১০-১২ হাজার টাকার কাপড়সহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট হয়েছে। আহত পরিবার সদস্যরা জানান, সার্বিক ক্ষতিকর পরিমান আনুমানিক অধিকাংশ প্রায় এক মিলিয়ন (দশ লাখ) টাকার সমমূল্য পর্যন্ত হতে পারে।
| আইটেম | তথ্য (ভুক্তভোগীর দাবি) |
|---|---|
| স্বর্ণালংকার | প্রায় সাড়ে চার ভরি |
| রূপা | প্রায় সাত ভরি |
| নগদ | ৩০,০০০ টাকা |
| কাপড় ও অন্যান্য | প্রায় ১০–১২ হাজার টাকার জিনিস |
“স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছি। ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। ডাকাতেরা প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র নষ্ট করে দিয়েছে।”
পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্ত
কামারখন্দ থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশ প্রথম প্রাথমিক তদন্তে এটিকে চুরি-ডাকাতির মেলবন্ধন হিসেবে দেখছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এলাকার কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় উপস্থিত করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি চুরির ঘটনা; তবে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা
স্থানীয়রা এ ঘটনার পরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাতের বেলায় জানালা ও দরজায় গ্রিল থাকা সত্ত্বেও ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট করা যাওয়া, বিশেষ করে দুই শিশু ও গৃহবধূর সঙ্গে এমন আচরণ, এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি বাড়িয়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, গ্রামটিতে রাতে অচেনা লোকজন দেখা গেলে থানায় অবহিত করার অনুরোধ থাকবে।
পরবর্তী প্রয়োজনীয় اقدام
এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে তৎপর হতে হবে। নীচে কিছু প্রস্তাবিত পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
- নিখুঁত স্থানীয় টহল ব্যবস্থা চালু রাখা এবং রাত্রীকালে বাড়িঘরের তল্লাশি বৃদ্ধি করা।
- প্রতিটি উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য এলাকাভিত্তিক সোরকোড বা মোবাইল গ্রুপ তৈরি করা।
- ভুক্তভোগী পরিবারের দ্রুত মানসিক ও শারীরিক সহায়তা নিশ্চিত করা—বিশেষত দুই শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা।
ধারণা ও অজানা দিক
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হামলাকারীরা সশস্ত্র ছিল না, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে ভগ্নপ্রাপ্তি ঘটিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বলেছে কিছু নথিপত্রও নষ্ট করা হয়েছে—যা ব্যবসায়িক ক্ষতির সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কামারখন্দ থানার তদারকিতে তদন্ত চলছে; ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।