রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একুশে আসরে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার জেলাভিত্তিক ফল প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার সকালে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফরাত জেরিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডভুক্ত আট জেলার মধ্যে বগুড়া জেলা এবারের ফলাফলেও সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করলো; একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলার পাসের হার আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম হিসেবে ধরা পড়েছে।
এক নজরে বোর্ডভিত্তিক সারসংক্ষেপ
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ হাজার ৭৬ হাজার ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন পাস করেছেন এবং মোট ১৬ হাজার ১১৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ফলাফল জেলা ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করলে পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য দেখা যায়।
| জেলা | মোট পরীক্ষার্থী | পাস | পাসের হার (%) | জিপিএ-৫ |
|---|---|---|---|---|
| বগুড়া | — | — | শীর্ষ | — |
| জয়পুরহাট | 8,491 | 5,734 | 67.53 | 847 |
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ | 13,239 | 8,623 | 65.13 | 1,138 |
| নওগাঁ | 21,258 | 13,284 | 62.49 | 1,730 |
| রাজশাহী | 27,678 | 17,239 | 62.28 | 2,949 |
| নাটোর | 15,742 | 9,642 | 61.25 | 1,194 |
| পাবনা | 26,181 | 15,907 | 60.76 | 1,970 |
| সিরাজগঞ্জ | 31,256 | 18,268 | 58.45 | 1,907 |
সিরাজগঞ্জে কেনো পাসের হার কম—কিছু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
প্রকাশিত সংখ্যাগুলি দেখলে বোঝা যায় সিরাজগঞ্জে সেকশনভিত্তিক ও সার্বিক শিক্ষাগত ফলপ্রদর্শনে ঘাটতি রয়েছে। জেলার মোট ৩১,২৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৮,২৬৮ জন পাস করেছে; পাসের হার ৫৮.৪৫%। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,৯০৭ জন, যা সংখ্যাসূচকভাবে মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে আছে, কিন্তু পাসের হার তুলনায় কম।
এ ধরনের ভিন্নতা সাধারণত কিছু কাঠামোগত ও চলমান কারণের সঙ্গে জড়িত হতে পারে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান, শিক্ষকের অনুপস্থিতি বা অনুপ্রবেশ, পরীক্ষা প্রস্ততিতে প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব, বা শিক্ষার্থীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। তবে নির্দিষ্ট কারণ জানতে জেলা শিক্ষাবোর্ড ও স্থানীয় অভিভাবক-শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।
মেয়েদের পারফরম্যান্স—বোর্ডভিত্তিক তুলনা
বোর্ডমত প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় মেয়েদের পাসের হার ছেলেদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বোর্ডে ৯২,৭৭৩ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩,১৯১ জন পাস করেছেন—পাস হার ৫৭.৩৩%; অপরদিকে ৮৩,২৭১ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮,৮৯৫ জন পাস করেছেন, পাস হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই প্রবণতা স্থানীয়ভাবে মেয়েদের শিক্ষা বাড়ানোর উদ্যোগ ও পরিবারের সমর্থনকে নির্দেশ করতে পারে।
কী করা উচিত—স্থানীয় স্তরে করণীয়
- জেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা বোর্ডকে দ্রুতভাবে ফল বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে জরুরি কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।
- নিচু পারফরম্যান্সের কারণ জানতে শিক্ষক-কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মশালা ও মৌলিক মূল্যায়ন আয়োজন জরুরি।
- অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তার জন্য টিউটরশিপ, অনলাইন সুবিধা বা সমন্বিত রিভিশন কোর্সের ব্যবস্থা দরকার হতে পারে।
ফল প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা রাখবে। সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায় ফলের ভিন্নতার কারণ খোঁজার কাজ এখনই শুরু করার দাবি রাখে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।