চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রেরা। বুধবার (১২ আগষ্ট) সকালে তারা এ কর্মসূচির সময়সূচি ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরে অঘোষিত ও অতিরিক্ত লোডশেডিং চলছে। বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন তারা বর্তমানে চলমান পর্ব সমাপনী পরীক্ষা সময়ের কারণে। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পড়াশোনা, ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি করছে বলে তারা জানায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুর রাহিম, পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ ও রিপন আলী প্রমুখ। শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করবে এবং দাবি মেনে না নেওয়া হলে পরবর্তী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সাত বা আট দফা দাবি
- বারঘরিয়া সংলগ্ন পলিটেকনিক ও আশপাশের এলাকায় অযৌক্তিক লোডশেডিং বন্ধ করা।
- পরীক্ষার চলাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- লোডশেডিংয়ের সঠিক ও প্রকাশ্য সময়সূচি প্রণয়ন ও তা নিয়মিত প্রকাশ করা।
- সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা।
- বারঘরিয়া পলিটেকনিক সংলগ্ন এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা।
- পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিদ্যুৎ সংযোগ পিডিবি বা নেসকোর আওতাভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- বারঘরিয়া পলিটেকনিক সংলগ্ন ৪ নম্বর ফিডারে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ানো।
- শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের ভোগান্তি লাঘবোল্পে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রভাব ও স্থানীয় উদ্বেগ
শিক্ষার্থীরা বলেছে, দিন-রাতের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে কঠোর সমস্যা তৈরি হয়েছে। পলিটেকনিকের ব্যবহারিক ক্লাসগুলোও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ছে, ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠক্রম ও পরীক্ষার মান বজায় রাখতে পারছে না।
তাদের অন্যমত আরও যে বিষয়গুলো উল্লেখ করে—ব্যবসা-বাণিজ্য, হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবায়ও এ অনিয়মিত suministro নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষত জরুরি চিকিৎসা সেবা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এটি বিঘ্ন সৃষ্টিকারী। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্যও লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় প্রশাসন ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া
এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য সংবাদকর্মীদের কাছে পাওয়া যায়নি। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার জন্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে সমাধানের পথ খোঁজা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি যদি দ্রুত মেনে নেয়া না হয়, তারা আরও তীব্র কর্মসূচি গ্রহণ করার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।
পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য
এই আন্দোলন ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও হালনাগাদ জানতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত:
- প্রশাসনিক নোটিশ ও স্থানীয় পিডিবি/নেসকো অফিসের বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
- পরীক্ষা বা জরুরি কার্যক্রমের সময় বিকল্প ব্যাকআপ (ইউপিএস/জেনারেটর) ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া।
- পড়াশোনা ও ব্যবহারিক প্রস্তুতির জন্য পরিকল্পিত সময়সীমা নির্ধারণ করে বিদ্যুৎ থাকাকালীন কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
| বিষয় | প্রভাবিত ক্ষেত্র |
|---|---|
| পরীক্ষা | পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ব্যবহারিক ক্লাস |
| স্বাস্থ্য | হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা |
| অর্থনীতি | ছোট ব্যবসা ও দৈনন্দিন লেনদেন |
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত এবং স্বচ্ছ সমাধান দিতে হবে—এটাই শিক্ষার্থীদের মূল দাবি। আগামী কর্মসূচি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে সংবাদ সূত্রে জানা গেছে।