চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে বিএনপি, ছাত্রদল ও নিয়োগবঞ্চিত আবেদনকারীরা সোমবার দুপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়, যা উপজেলা পরিষদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
বিক্ষোভ ও দাবি
উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে বলেছেন যে নিয়োগ তালিকায় অনিয়ম হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাভোগীরা নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের দাবি—বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে ইউএনও প্রিয়াংকা দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানাকে অপসারণ করতে হবে।
বিক্ষোভে সভাপতিত্ব করেন নাচোল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন। এছাড়া পৌর বিএনপির সহসভাপতি আমানুল্লাহ আল মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মেহরাব জাকারিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মুকুল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজিম এবং ছাত্রদল নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা ইউএনও ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের 'দোসর' আখ্যা দিয়ে তাদের অপসারণ দাবি করেন এবং অনতিবিলম্বে ফলাফল বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুমকি দেন।
অফিসে তালা, সরকারি সেবা ভোগান্তিতে
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, শিক্ষা অফিস, এলজিইডি ও অন্যান্য প্রধান সরকারি দপ্তরের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় উপজেলা জুড়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রারম্ভ থেকেই বন্ধ থাকে। তালা ঝুলানোর পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুপুরের মধ্যে অফিস ত্যাগ করেন। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আপাতত সেবা থেকে বঞ্চিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ পেছালো বলে স্থানীয়রা জানান।
- প্রধান দাবি: বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার অপসারণ।
- অভিযোগের ধরণ: স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ।
- সম্ভাব্য কর্মসূচি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে উপজেলা সরকারি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার হুমকি।
ইউএনওর প্রতিক্রিয়া
“স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ফলাফল দেওয়া হয়েছে। এটা স্বাধীন দেশ, সবাই দাবি-দাওয়া করতে পারে”
এই বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস বেলুন করা বক্তব্যে বলেন যে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ফলাফল যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তার একান্ত বক্তব্য ছাড়া বিক্ষোভকারীদের কড়া সমালোচনা ও প্রত্যাহারের দাবি ঘিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা যায়।
স্থানীয়দের মতামত ও সম্ভাব্য প্রভাব
নাচোলবাসী বলেন, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম বিঘ্নিত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব পড়ে—বৈধ কাগজপত্র, ভাতা, শিক্ষা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজ আটকে পড়ে। অনেকে জানান, ভোট-উত্তর সময়ই নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ প্রকট হয়ে ওঠে এবং তা অরক্ষিত থাকলে সরকারী সেবায় বিশ্বাস কমে আসে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিয়োগবঞ্চিতরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করে নিয়মসাপেক্ষে নিয়োগের প্রত্যাশায় ছিলাম, কিন্তু ফলাফল প্রকাশে স্বজনপ্রীতি স্পষ্ট হওয়ায় প্রতিলিপি নেই বলে মনে করছেন তারা। তাদের দাবি পূরণ না হলে যেকোনো সময় তারা আরও তীব্র কর্মসূচি নিতে পারে—যা উপজেলা প্রশাসনের জন্য বড় সংকট ডেকে আনবে।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান যেখানে তালা ঝুলানো হয়েছে | ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, শিক্ষা অফিস, এলজিইডি |
| প্রধান দাবি | নিয়োগ বাতিল ও দুই কর্মকর্তা অপসারণ |
| সম্ভাব্য সময়সীমা | ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি |
পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়ার সুপারিশ
স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলদের উচিত দ্রুতভাবে অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করে স্বচ্ছ ও তদারকি-নির্ভর তদন্ত পরিচালনা করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হন সেই দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমেই উত্তেজনা কমানো সম্ভব বলে স্বাস্থ্যকর রাজনৈতিক সংস্কৃতির দাবি করা হচ্ছে।
নাচোল থেকে WE NEWS-এর প্রতিবেদক জানান, পরিস্থিতির বিকাশ খতিয়ে দেখেই পরবর্তী রিপোর্ট প্রদান করা হবে।