অভিযানে ধরা পড়া অপরাধ ও আরোপিত জরিমানা
মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় গত সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালিত অভিযানে দুইটি খাদ্যপরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণ এবং পণ্যে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ না থাকার মতো লঙ্ঘন ধরা পড়ে। অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটি—আনারপুরার নিউ ফুড ভিলেজ হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট এবং ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের ঢাকা মিষ্টিমুখ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট—র বিরুদ্ধে মোট ৪০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মুন্সিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ। অভিযান দুপুর ১২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আনারপুরা ও ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিচালিত হয়। গজারিয়া উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক ফারহানা খান ও গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহায়তা করে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনিয়ম
অভিযানে নিউ ফুড ভিলেজ হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার তৈরির পরিবেশকে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বলে চিহ্নিত করা হয়। তল্লাশিতে দেখা যায় একই ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখা হচ্ছে, আর তৈরি খাবারগুলো খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এসব অনিয়মের কারণে রেস্টুরেন্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহীনকে ১৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের ঢাকা মিষ্টিমুখ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে মিষ্টি ও অন্যান্য খাবার তৈরির সময় নোংরা পরিবেশ, খোলা অবস্থায় ডাস্টবিন রাখা এবং কর্মীদের হাত ধোয়ার জন্য সাবানের ব্যবস্থা না থাকার মতো ঘাটতি ধরা পড়ে। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের দই ও রসমালাইয়ের পাত্রে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখও উল্লেখ করা ছিল না। এসব অনিয়মের জন্য ম্যানেজার তপন চৌধুরীকে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
চলতি নীতিমালা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ
অভিযানে অংশ নেওয়া সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ জানান, খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং খাদ্যপণ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না করার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন—
“খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং খাদ্যপণ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না করার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। এধরনের অভিযান খাদ্যদোকান ও রেস্টুরেন্টগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
স্থানীয় প্রভাব ও ভোক্তা সতর্কতামূলক দিক
গজারিয়া উপজেলা এলাকায় রাস্তাঘাটে ও বাজারে স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহের পরিমাণ বেশি। যেখানে খাবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে খাদ্যবাহিত অসুখ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। জনস্বাস্থ্য রক্ষাসহ অন্নভক্ষণকারীদের রোগবালাই রোধে খাবার প্রস্তুতকারীদের পরিমিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একান্ত জরুরি।
- ভোক্তা হিসেবে করণীয়: বাইরে খাওয়ার আগে খাবারের গতি-গল্প, পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা যাচাই করুন।
- রেস্টুরেন্ট পরিচালকদের জন্য নির্দেশনা: আলাদা ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা খাবার সংরক্ষণ করুন; পাত্রে উৎপাদন ও মেয়াদ উল্লেখ করুন; কর্মীদের জন্য হাত ধোয়ার সাবানসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
- নির্মাণাধীন পদক্ষেপ: এ ধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তফসিলি তথ্য
| প্রতিষ্ঠান | মূল অনিয়ম | জরিমানা |
|---|---|---|
| নিউ ফুড ভিলেজ হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট | নোংরা পরিবেশ; একই ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা খাবার; খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ | ১৫,০০০ টাকা |
| ঢাকা মিষ্টিমুখ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট | নোংরা পরিবেশ; ডাস্টবিন খোলা রাখা; কর্মীরা সাবান না থাকা; পাত্রে উৎপাদন/মেয়াদ অনুপস্থিত | ২৫,০০০ টাকা |
অভিযান থেকে সুচিত হল যে স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি ও ভোক্তা সচেতনতা উভয়ই প্রয়োজন। ভোক্তাদের কাছেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য নিজের দায়িত্ব রয়েছে—হতাশ হওয়ার নয়, সতর্ক হওয়া জরুরি।
(সংবাদ সূত্র: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মুন্সিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের গাড়যোলাপ/গজারিয়া রিপোর্ট)