মুন্সিগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি চালিয়ে তিনটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের পাশে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান ও উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মকর্তা
ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়া স্থানীয় সংবাদকর্মী এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিনিধিরাও অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাইসেন্স, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত জনবল, প্রয়োজনীয় সনদপত্র ও সেবার মূল্য নির্ধারণ বিধি-নিষেধ অণুসরণের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।
কারা জরিমানা হল—পরিমাণ ও কারণ
তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরোপিত জরিমানার কারণ এবং পরিমাণ নিম্নরূপ ছিল:
- নূরজাহান হাসপাতাল: পর্যাপ্ত সংখ্যক ডিপ্লোমা নার্স না থাকায় ৩০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
- নিপুণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার: সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডেঙ্গু পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ল্যাব টেকনিশিয়ান/টেকনোলজিস্টের ঘাটতির কারণে ৩০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
- মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার (শাখা-২): এক্স-রে টেকনোলজিস্ট না থাকা, প্রয়োজনীয় সনদের ঘাটতি এবং লাইসেন্স নবায়ন না করার অভিযোগে ১৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
| প্রতিষ্ঠান | অভিযোগের ধরন | জরিমানা (টাকা) |
|---|---|---|
| নূরজাহান হাসপাতাল | ডিপ্লোমা নার্সের অভাব | ৩০,০০০ |
| নিপুণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার | অতিরিক্ত মূল্য, ল্যাব স্টাফের ঘাটতি | ৩০,০০০ |
| মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার (শাখা-২) | এক্স-রে টেকনোলজিস্ট নেই, সনদ ও লাইসেন্স সমস্যা | ১৫,০০০ |
সিভিল সার্জনের মন্তব্য
“স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, জনবল, প্রয়োজনীয় সনদসহ সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স নবায়ন না করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও রোগীদের ভোগান্তি রোধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উক্ত বক্তব্যে ডা. সাজেদা বেগম স্পষ্ট করে বলেছেন যে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম রোধে প্রশাসন কড়া অবস্থান রাখবে এবং নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রয়োজনে করণীয় কঠোরভাবে গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও রোগীদের সচেতনতা
মুন্সিগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো গ্রামীণ ও শহরতলির মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেয়। তবে লাইসেন্সবিহীন বা অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী থাকা, নির্ধারিত মূল্য অমান্য করা—এসব অনিয়ম সরাসরি রোগীর আর্থিক ও শারীরিক ঝুঁকি বাড়ায়। স্থানীয় রোগী ও স্বজনরা বলেন, পরীক্ষার খরচ বাড়লে চিকিৎসায় বাধা পড়ে এবং ভুলভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী রোগীর সঠিক নির্দেশনা দিতে অপারগ হতে পারেন।
কেন নিয়ম মেনে চলা জরুরি
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও সনদের নিয়ম হলো রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি মৌলিক কাঠামো। যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও এক্স-রে অপারেটরের উপস্থিতি চিকিৎসা পরীক্ষার নির্ভুলতা ও সেবার গুণগত মান বজায় রাখে। সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা রোগীদের অতিরিক্ত খরচ থেকে রক্ষা করে। এসব মাপকাঠি না মানলে রোগি-পরিবেশ উভয়ের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়।
পরবর্তী করণীয় ও প্রশাসনের পরিকল্পনা
অভিযানকালে অফিসাররা জানিয়েছিলেন যে এ ধরনের মোবাইল তদারকি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা আরও বলেছে যে লাইসেন্স নবায়ন না করায় যারা দীর্ঘদিন ধরে সেবা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া হবে।
স্থানীয়দের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ:
- যে কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সেবা নেয়ার আগে লাইসেন্স ও কর্মী প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করুন।
- পরীক্ষার আগে সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে লিখিত বা মুদ্রিত তালিকা চাইতে দ্বিধা করবেন না।
- অস্বাভাবিক উচ্চ মুল্যপ্রস্তাব বা সনদহীন কর্মী দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিন।
মুন্সিগঞ্জ জেলার স্বাস্থ্য শাখা এবং স্থানীয় প্রশাসন এই রিপোর্টিংয়ের পরও প্রয়োজনে আরো কড়া অভিযান চালাতে পারে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।