মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় ব্যবহার করে চালকদের ভীতি দেখিয়ে অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার এই তথ্য জানান ও গ্রেপ্তারিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনটি চোরাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেফতার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে গজারিয়া থানার চরবাউশিয়া এলাকায় এক অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি অটোরিকশায় দুজনকে সন্দেহজনকভাবে বসে থাকতে দেখেন এ অভিযানকারীরা। তাদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ থাকার তথ্য মিললে পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়। তারা পুলিশ সদস্য বলে দাবি করলেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে তারা ভুয়া ডিবি পরিচয় ব্যবহার করে অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন।
পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, অভিযানে গ্রেফতার মোট চারজন: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মো. শামীম সৌরভ (৩২), বরগুনার আমতলীর মো. শাকিব (ওরফে শাকিল) (২৪), নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মো. হাবিবুর (৪০) এবং মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর মো. কাশেম ঢালী (৫০)।
উদ্ধারকৃত সামগ্রী ও প্রাথমিক তদন্ত
পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে:
- তিনটি চোরাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
- একটি হ্যান্ডকাফ
- দুটি ওয়াকিটকি
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা হ্যান্ডকাফ ও ওয়াকিটকি দেখিয়ে চালকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে অটোরিকশা কৌশলে দাবি করতেন বা সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এখনো চক্রটির অন্য সদস্যরা জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব ও সতর্কবার্তা
গজারিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ঘটানো কিছু সময় ধরেই চলমান সমস্যা। এ ধরনের ঘটনার ফলে স্থানীয় অটোরিকশা চালক ও যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পুলিশ সুপারের বক্তব্যে সতর্কবার্তা ছিল, সাধারণ মানুষকে ভুয়া আইনশৃঙ্খলা পরিচয় দৃষ্টিগোচর হলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাতে বলেছে জেলা পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় তথ্য (সংক্ষিপ্ত)
| নাম | বয়স | ঠিকানা/সংশ্লিষ্ট জেলা |
|---|---|---|
| মো. শামীম সৌরভ | ৩২ | নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ |
| মো. শাকিব (ওরফে শাকিল) | ২৪ | বরগুনা, আমতলী |
| মো. হাবিবুর | ৪০ | নারায়ণগঞ্জ, বন্দর |
| মো. কাশেম ঢালী | ৫০ | মুন্সিগঞ্জ, টঙ্গীবাড়ি |
পুলিশের পরবর্তী কর্মপন্থা
দ্যা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা চলছে। তদন্তকারীরা এখন চক্রের সম্পৃক্ততা ও ওইসব চোরাই অটোরিকশাগুলোর মালিক-হালনাগাদ নির্ণয়ে কাজ করছে। এছাড়া সম্ভাব্য ভিকটিমদের খুঁজে বের করে তাদের সম্পত্তি ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে সাধারণ মানুষ সতর্ক থাকবে
- চিরাচরিতভাবে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় যাচাই করতে বলুন; পরিচয়পত্র সরাসরি দেখাতে চাওয়া উচিত।
- অস্বাভাবিক হ্যান্ডকাফ বা রেডিও, ওয়াকিটকি প্রদর্শন করলে সংবেদনশীল হন। দ্রুত স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করুন।
- যদি সম্ভব হয়, দৃশ্যমান ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্যামেরা বা মোবাইল দিয়ে ঘটনাটি রেকর্ড করুন এবং পুলিশকে জানাবেন।
ঘটনাটি গজারিয়া ও নিকটবর্তী এলাকায় জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অতিরিক্ত নজরদারি বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।