স্থানীয়রা বলছেন—দুদিন ধরে প্রকাশ্য নির্মাণ কাজ
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার হাটলক্ষীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পশ্চিমদিকে ধলেশ্বরী নদীর তীর ঘেঁষা খালি জায়গায় গত কয়েকদিন ধরে টিন ও কাঠের নতুন স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে। বুধবার (২০ আগস্ট) বিকালে সরেজমিনে পুরোনো লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা যায়—শ্রমিকেরা নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন এবং স্থানটি আংশিকভাবে পার্শীল।
উদ্বেগের কারণ ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওই জায়গাটি পূর্বে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। উচ্ছেদের পরে ওই স্থানটি দীর্ঘদিন খোলা ছিল; শহরের অনেক মানুষ সেখানে গিয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতেন।
নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা উৎকণ্ঠায় আছেন। তাঁদের মূল আশঙ্কা হল—যদি এখনই নির্মাণ বন্ধ না করা হয়, ভবিষ্যতে আরও অনেকে একইভাবে সরকারি জায়গা দখল করে স্থায়ীভাবে স্থাপনা গড়ে তুলতে উৎসাহিত হবেন। এতে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হওয়া ছাড়াও ধলেশ্বরী নদীর তীরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বলছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও প্রশাসনের অবস্থান
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগে বলা হয়েছে—নির্মাণকাজে বাল্কহেড জাহাজ মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টতা আছে। সমিতির সহসভাপতি আবদুল জব্বার এই অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।
“এখানে আমাদের একটি ঘর ছিল। সরকার সেটি ভেঙে দেওয়ার পর আমরা অন্য জায়গায় অফিস ভাড়া নিয়েছি। আমিও শুনেছি এখানে দোকান নির্মাণ হচ্ছে। কারা দোকান নির্মাণ করছে, তা আমরা জানি না।” — আবদুল জব্বার
মুন্সিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, যে জায়গায় স্থাপনা হচ্ছে সেখানে তাদেরও কিছু জায়গা রয়েছে, তবে মূলত ওই জায়গা বিআইডব্লিউটিএর (বাহ্যিক নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ) অধীনস্থ বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, তিনি জানিয়েছেন—লোক পাঠিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চুপচাপ থাকা ও ভয়ের কারণ
এক নাম প্রকাশ না করায় স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, পূর্বে সরকারি উদ্যোগে আগের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়; এখন নতুন করে নির্মাণ হলে তা স্থায়ী হয়ে গেলে দেখাদেখি করে আরও অনেকে জায়গা দখল করবে। তবে তিনি বলেন, “প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।”
দিশাহারা প্রশাসন, আগাম করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবে কি উদ্যোগ নেওয়া হবে—এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও পৌর প্রশাসনের সুস্পষ্ট পদক্ষেপের অপেক্ষায় স্থানীয়রা। নদীর তীর সংরক্ষণ, জনসাধারণের জনস্বার্থ রক্ষা ও সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে দ্রুত অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা।
- প্রধান অভিযোগ: ধলেশ্বরী নদীর তীরের সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ।
- দাবি-অস্বীকার: স্থানীয়রা বাল্কহেড মালিকদের সংশ্লিষ্টতার কথা বললেও সংগঠনটির সহসভাপতি তা অস্বীকার করেছেন।
- প্রশাসনের ভূমিকা: পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় অংশত তাঁদের জায়গা, কিন্তু অধিকাংশ জমি বিআইডব্লিউটিএর। তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।
| পক্ষ | অবলোকন |
|---|---|
| স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী | নির্মাণ কাজ দেখে উদ্বিগ্ন, ভয়ে সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না |
| বিআইডব্লিউটিএ (উল্লেখ) | ২০২৪ সালে অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল; এখন প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে |
| পানি উন্নয়ন বোর্ড | স্থানটির কিছু অংশ তাঁদের বলে জানায়, তবে মূল ভূমি বিআইডব্লিউটিএর বলে মন্তব্য |
মুন্সিগঞ্জের এই ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা, নদীর তীরের ব্যবহার ও পরিবেশগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কী সময়ের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—তার প্রতিউত্তর নাগরিকরা জানতে চান।