মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশস্থল ও তার আশপাশে ১৪৪ ধারাজারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। সিদ্ধান্তটি বুধবার দুপুরে নেওয়া হয়েছে বলে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কেন ১৪৪ ধারা বাড়ানো হলো?
ইউএনও জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা এবং অবস্থার কারণে করোনা সংক্রমণ রোধের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলামের আয়োজনে জেলা ও ঢাকা দক্ষিণের প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাত ও জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ছিল।
"হেফাজতে ইসলামের মুন্সিগঞ্জ জেলা ও ঢাকা দক্ষিণের আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ও জনগণের জানমালের ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। সমাবেশটির কোন অনুমোদন নেই, যার প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ,"
ইউএনও ফয়েজুল ইসলাম আরও জানান, সমাবেশটি কুচিয়ামোড়া কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার দুপুরে হওয়ার কথা ছিল, তবে অনুমোদন না থাকায় এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
কোথায় কত সময় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে?
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত নিম্নোলিখিত এলাকার মধ্যে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে:
- কেয়াইন ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়া কলেজ মাঠ
- নিমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার আশপাশ
- কুচিয়ামোড়া ইসলামপুর কবরস্থান এলাকার আশপাশ
এ অঞ্চলগুলোর চারপাশে প্রায় ২০০ গজ পরিধিতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কারণ | আইন-শৃঙ্খলা অবনতি ও করোনা সংক্রমণ রোধ |
| সময়সীমা | বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা |
| প্রভাবিত এলাকা | কুচিয়ামোড়া কলেজ মাঠ ও আশপাশ ২০০ গজ |
| নিষিদ্ধ কার্যক্রম | সভা-সমাবেশ, মিছিল, র্যালি, বিক্ষোভ, মাইকিং, লাউড স্পিকার |
প্রতিক্রিয়া ও হেফাজতের অবস্থান
স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের সিরাজদিখান উপজেলা সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ কাশেমী বলেন, তারা কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগমুখর কর্মকাণ্ড ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশের পরিকল্পনা করেছিল। তিনি জানিয়েছেন, ওই সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
অধিকতর তথ্য অনুসন্ধান করার সময় হেফাজতের স্থানীয় নেতারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বললেও, প্রশাসনের অনুমতি-সংক্রান্ত বক্তব্যে জোর আছে যে সমাবেশটি অনুমোদনহীন ছিল এবং পুলিশের প্রতিবেদন জমা ছিল।
স্থানীয়দের জন্য প্রাসঙ্গিক কার্যবলি
- নিয়মিতভাবে চলাচলকারী পথ ও পরিবহনভিত্তিক কার্যক্রমে বিকল্প পথে পরিকল্পনা করুন।
- সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন এবং কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে স্থান ত্যাগ করুন।
- স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি নির্দেশনা মেনে চলুন।
স্থানীয় প্রশাসনের এই নির্দেশ সাময়িক। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে অনাবশ্যক উত্তেজনা ও সংঘর্ষ এড়ানো যায় এবং সাধারণ জনগণের নিশ্চিৎ নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়।
সিরাজদিখান উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে পরবর্তীতে গণমাধ্যম ও জনসাধারণকে আরও নির্দেশনা জানানো হবে।