উদ্বোধন ও অংশগ্রহণের পরিসর
মুন্সিগঞ্জে শনিবার বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘‘মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’’ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় ১৭৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ২৪ জন করে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে—তা হলে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২০০০ জন নয়, ৪২০০ জন।
পরীক্ষার কাঠামো ও মূল্যায়ন নীতিমালা
ফাউন্ডেশন জানিয়েছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যবই অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হবে। পরীক্ষায় চতুৰ্থ বিষয় হিসেবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান—মোট চারটি বিষয়ের উপর নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্ন থাকবে এবং সব মিলিয়ে পরীক্ষা হবে ৯০ নম্বর। এছাড়া পরিবেশ সচেতনতায় নজর রেখে পরীক্ষার সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর রাখা হয়েছে।
গুনগত মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি
বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি সামিয়া শারমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“মেধাবৃত্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই নীতিমালা অনুসরণ করে সব শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, মেধাক্রম অনুযায়ী নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এককালীন বৃত্তি, সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে। ফাউন্ডেশন চেষ্টা করছে মুন্সিগঞ্জের প্রত্যেক প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে।
অ্যাডমিনিস্ট্রেশন: সময়সূচি ও যোগাযোগ
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে পরীক্ষার কেন্দ্রসমূহ, ফরম পূরণের সময়সূচি ও পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ শিগগিরই ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। অংশগ্রহণপ্রত্যাশীদের জন্য প্রাসঙ্গিক বিস্তারিত তথ্যও ওই মাধ্যমেই দেয়া হবে।
- বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ১৭৫
- প্রতি বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ: ২৪ জন
- মোট অংশগ্রহণকারী: ৪২০০ জন
- পরীক্ষার নম্বরবিন্যাস: এমসিকিউ ৯০ + বৃক্ষরোপণ ১০ = মোট ১০০ নম্বর
আগের ফলাফল ও ধারাবাহিকতা
ফাউন্ডেশন ২০২২ সাল থেকে এই মেধাবৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত চার বছরে মোট ৪৯৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৮ জন এবং সাধারণ বিভাগে ৪০৫ জন তথা মোট ৪২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান ফাউন্ডেশনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি ছবি তুলে ধরে এবং এবারের বৃহৎ অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রোৎসাহন সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের কথায়, পরীক্ষার মাধ্যমে শুধুমাত্র মেধা নির্ণয় নয়, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ বাড়ানোও লক্ষ্যমাত্রা। স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা এ কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন—কারণ বড় পরিসরে পরীক্ষা হলে দূরদৃষ্টির শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতার মান বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা করছেন।
| বিষয় | নম্বর |
|---|---|
| এমসিকিউ (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান) | ৯০ |
| বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম (অতিরিক্ত) | ১০ |
আয়োজকেরা জানান, পরীক্ষার যথাযথ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ফরম ও কেন্দ্রের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হবে—এ তথ্য ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পাওয়া যাবে।