মুন্সিগঞ্জে প্রবল গরমের মধ্যে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় গ্রাহকরা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতের বেলায়ও ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
ক্লান্ত জনজীবন, বাড়ছে উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলেন সকাল থেকে দুপুর, বিকেল থেকে সন্ধ্যা—কোনো সময়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষত রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি বাড়ছে; ঘুমানোর সময় ফ্যান না থাকা, পানির পাম্প না চালানো গেলে রোগ-জরায়ু, শিশুবয়সী ও বৃদ্ধদের কষ্ট বাড়ে।
“দিনে গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না, রাতে ঘুমানোর সময়ও চলে যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে মানুষ কীভাবে থাকবে?”
স্থানীয়রা আরও জানায়, বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কোনো নিয়ম বা নিশ্চিত সময় সূচি নেই। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ আসলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয় না; এক থেকে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে ঘরোয়া, শিক্ষাব্যবস্থা ও ছোট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না।
প্রভাব পড়ছে শিক্ষা-ব্যবসায়
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা জানান, লোডশেডিংয়ের ফলে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ বিদ্যুতভিত্তিক যন্ত্রপাতি চালু রাখা যাচ্ছে না। ফলে কাস্টমার সার্ভিসে বাধা, কাজের সময় বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনায় ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবারে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
- স্বাস্থ্য ও আরাম: গরমে ফ্যান না থাকায় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে, অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
- পানি সরবরাহ: পাম্প না চালু থাকায় পানি পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
- অর্থনৈতিক প্রভাব: ছোট ব্যবসা ও দোকানগুলো কাজ বন্ধ অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবাদ ও অভিযোগ আসে বিভিন্ন এলাকা থেকে
মুন্সিগঞ্জ সদর, শ্রীনগর, লৌহজং ও সিরাজদিখান—এসব এলাকা থেকে দীর্ঘ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের কথায়, লৌহজংয়ের কিছু এলাকায় কয়েক মাস ধরে সমস্যা রয়েছে এবং পরিস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে অব্যাহত।
| এলাকা | অভিযোগের ধরন |
|---|---|
| মুন্সিগঞ্জ সদর | দিন-রাত জুড়ে নিরবচ্ছিন্নতা নেই |
| শ্রীনগর | ঘন ঘন বিদ্যুত ছাড়া পড়া |
| লৌহজং | কয়েক মাস ধরে দীর্ঘস্থায়ী বিভ্রাটের অভিযোগ |
| সিরাজদিখান | রাতের লোডশেডিং বেশি হয়ে উঠে |
জেলার বিভিন্ন সামাজিক গ্রুপ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের নজরে এনে দ্রুত সমাধান দাবি করেছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ অনুপস্থিতির কারণে তাপ-সংক্রান্ত সমস্যা ছাড়াও খাদ্যপণ্য ও ওষুধ সংরক্ষণে ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কাও ব্যক্ত করা হচ্ছে।
কী করা উচিত — স্থানীয় প্রেক্ষাপট
স্থানীয়দের কাছে এখনই প্রয়োজন বিষয়টি ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার নজরে আনা এবং একট্রি নির্ধারিত লোডশেডিং সূচি ঘোষণা করা, যাতে মানুষ কাজ-জীবন সামলাতে পারে। এছাড়া জরুরি মুহূর্তে স্বাস্থ্য ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী বিদ্যুৎ বা পানির ব্যবস্থা করার অনুরোধ উঠেছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা ও অভিযোগ নিয়েও ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করে আলোচিত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উপরের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না হলে সাম্যিকভাবে গ্রীষ্মকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়বে—এ জন্য সময়োপযোগী ব্যবস্থা জরুরি।