ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া ডেঙ্গু সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
যেসব তথ্য জানানো হয়েছে
হাসপাতালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চাপ বাড়ছে। মৃত দুজনই ছিলেন ৪০ বছর বয়সী। মৃতদের বিস্তারিত নাম ও বাড়ি-অবস্থান হাসপাতালের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে— ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আব্দুল বারেকের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (৪০) এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে কদ্দুস (৪০)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় যে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বছরের এই হাসপাতালের ডেঙ্গু মৃত্যুর মোটসংখ্যা এখন ১২।
“ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাও ছিল,”
এ তথ্য হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এমদাদুল্লাহ খান নিশ্চিত করেছেন।
সংখ্যার সারাংশ
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি | ৪৩ |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী | ১১১ |
| এই বছরের হাসপাতালে ডেঙ্গু মৃত্যু | ১২ |
স্থানীয় প্রভাব ও স্বাস্থ্যসেবা চাপ
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে—যার ফলে সেবা প্রদানে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণ ও ভর্তি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে; তবে ভর্তি বাড়লে শয্যা ও চিকিৎসাকর্মীর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে শর্তসাপেক্ষভাবে হেমোরেজিক লক্ষণ বা প্লেটলেট কম হওয়ার ঝুঁকি থাকলে দ্রুত মেডিকেলে নিয়ে আসার প্রয়োজন হয়। হাসপাতালে থাকা রোগীদের পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণে নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রক্ষামূলক পদক্ষেপ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বার্তা
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে কিছু মৌলিক সতর্কতা পালন করতে বলা হচ্ছে:
- বাড়ির আশপাশে জুড়ে থাকা পানির সংস্থান (জলাবদ্ধতা) নির্মূল করা।
- ব্যক্তিগতভাবে মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা ও প্রতিরোধক ব্যবহার করা।
- জ্বর বা স্বাস্থ্যহ্রাসবোধ করলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করানো।
এই রোগটির প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে দ্রুত সঠিক পরিচর্যা না পেলে জটিলতা বাড়তে পারে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরঘরে সচেতনতা বাড়াতে ও পাড়া-প্রতিবেশে মশা নির্বাপণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোগীর সংখ্যা এবং শয্যার অবস্থার উপর নজর রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ন সেবা ও সরঞ্জাম ব্যাবস্থা করা হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জন অফিসের সাথে সমন্বয় করে মশক নিধন কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ডেঙ্গু রোগী কিংবা তাদের পরিবার যাদের প্লেটলেট বা জ্বর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তারা সরাসরি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে যোগাযোগ করে বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এই রিপোর্টটি হাসপাতালের নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিবেদন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।