ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এনসিডি (অসংক্রামক রোগ) কর্নার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী কার্যক্রম সম্পন্ন করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা)।
সেবা সুবিধা ও কর্মসূচির পরিধি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সমন্বয়ে চালু এই উদ্যোগটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় দেশের ৩২৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ৫টি জেলা সদর হাসপাতাল—এর মধ্যে ঝালকাঠিও—এনসিডি কর্নার পরিচালনা করছে। এই কেন্দ্রগুলোতে রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত অনুসরণ, পরামর্শ ও সার্বিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে রোগ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চাওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলার প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, সদর হাসপাতালের পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক) ডা. মাসুম ইফতেখার, ডেপুটি প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর ডা. শামীম জুবায়ের, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. টি এম মেহেদি হাসান সানি সহ অন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
উদ্বোধনী বক্তব্য: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব
“সদ্য চালু হওয়া এনসিডি কর্নারটি ঝালকাঠির উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রাথমিক পর্যায়েই এসব রোগ শনাক্ত, নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিশ্চিত করা জরুরি।”
এ কথা বলেন ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেয়াই লক্ষ্য।
কোন সেবা পাওয়া যাবে—এক নজরে
হাসপাতালের নব-উদ্যোগে এনসিডি কর্নার থেকে পাওয়া যাবে প্রাথমিক স্তরের নিচের সেবাগুলো:
- উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার স্তর (ডায়াবেটিস) পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ
- নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ (প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যায়)
- জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পরামর্শ
- রোগী নজরদারি ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফলোআপ ব্যবস্থা
হাসপাতালের কর্তাব্যক্তিরা জানান, কর্নারে রোগী নিবন্ধন, রেজিস্ট্রি ও প্রাথমিক মূল্যায়ন দিয়ে স্থানীয় চিকিৎসা কর্মীরা রোগীদের পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ধারণ করবেন।
প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা
স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই এনসিডি শনাক্ত করতে পারলে জটিলতা ও হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ব্যয়ও হ্রাস পাবে। স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করেন, নিয়মিত পরামর্শ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উৎসাহ উদ্দীপনা থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা বলেন, সেবার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত মানবসম্পদ, ওষুধ ও সরঞ্জামের প্রবাহ বজায় রাখা হবে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা কর্মসূচি ও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
কীভাবে যোগাযোগ করবেন
হাসপাতালের সাধারণত পরীক্ষার সময় ও সেবা গ্রহণের নিয়ম সম্পর্কে জানতে সরাসরি সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। উদ্বোধনী এ পর্যায়ে সেবা নিতে আসা রোগীদের নিয়মিত ফলোআপ ও পরামর্শ সম্পর্কে হাসপাতালের নের্তৃস্থানীয়রা নির্দেশ দিয়েছেন।
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | ৩২৬ |
| জেলা সদর হাসপাতাল | ৫ |
সার্বিকভাবে, ঝালকাঠিতে এনসিডি কর্নারের শুরুর সঙ্গে স্থানীয়রা ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘমেয়াদে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে চিকিৎসা প্রশাসন আশা দেখিয়েছে।