ঝালকাঠি জেলা সদর হাসপাতালে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে একটি এনসিডি (অসংক্রামক রোগ) কর্নার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)। এই কর্নারটি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের সমন্বিত চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে স্থাপিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে সেবা
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (অসংক্রামক রোগ) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিচালিত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। সূত্রে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৩২৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাঁচটি জেলা সদর হাসপাতালে এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও বক্তব্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, সদর হাসপাতালের পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক) ডা. মাসুম ইফতেখার, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর ডা. শামীম জুবায়ের, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. টিএম মেহেদি হাসান সানি সহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মসূচির কর্মকর্তা।
“সদ্য চালু হওয়া এনসিডি কর্নারটি ঝালকাঠির উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,”
উক্ত বিখ্যাত বক্তব্যটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের কাছ থেকে করা হয়। তিনি আরও বলেন যে সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজনীয়।
এনসিডি কর্নারের কর্মপরিধি ও প্রত্যাশা
প্রাথমিক পর্যায়ে এনসিডি কর্নারটির লক্ষ্য হলো রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত তদারকি, ঔষধ পরামর্শ ও জীবনধারা পরিবর্তন সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদান করা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কর্নারে রোগী নিবন্ধন, রক্তচাপ মাপা, গ্লুকোজ পরীক্ষা ও পরামর্শ পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। এই সেবার মাধ্যমে রিমোট বা স촌 এলাকা থেকে এসে চিকিৎসা পাওয়ার ভার কমবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
- লক্ষ্য রোগ: উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস
- প্রদান করা সেবা: রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত মনিটরিং, ওষুধ-নির্দেশনা ও জীবনধারা পরামর্শ
- উদ্যোগকারীরা: স্বাস্থ্য অধিদফতর (রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ
সদর হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্নারটি নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে যথাযথ কর্মী ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হবে। তবে স্থানীয়ভাবে সেবা সহজলভ্য করতে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়ে গেছে—যেমন জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ নিয়ন্ত্রণে রোগীর নিয়মিত অনুসরণ ও ঔষধের ধারাবাহিকতা—এসবের ওপরও কাজ করা হবে বলে জানান চিকিৎসকরা।
| বিন্দু | বর্ণনা |
|---|---|
| প্রকল্পের ভৌগোলিক বিস্তার | ৩২৬ উপজেলা + ৫ জেলা সদর হাসপাতাল |
| লক্ষ্য রোগ | উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস |
| মূল উদ্দেশ্য | প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও সমন্বিত সেবা |
স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসময়ে শনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস জটিলতা বাড়ায়—হৃদরোগ, কিডনি ক্ষতি ও অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে এই ধরনের কর্নার থাকলে রোগ নিয়ন্ত্রণে সুফল আসার সম্ভাবনা বেশি।
অবশেষে, জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই কর্নারটি স্থিতিশীলভাবে চালানোর জন্য স্থানীয় রোগী-সমাবেশ, সচেতনতা কর্মশালা এবং পর্যায়ক্রমে ফলাফল পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছে চিকিৎসা সম্প্রদায়। ঝালকাঠির সাধারণ জনগণও জানাচ্ছে—শারীরিক সমস্যায় দ্রুত ও সহজে চিকিৎসা পাওয়ার আশা বেড়েছে।