ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গতকাল ২০২৬ সালের মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেছে। বোর্ড সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানায়, এই বছরের গড় পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফলের সারসংক্ষেপ
বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার ৮৭৭ এবং ছাত্রী ছিল ৫১ হাজার ১৫১। সামগ্রিকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬০ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী।
মেয়ে পরীক্ষার্থীদের পাসের হার ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি—ছাত্রীদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩১ হাজার ৯০২ জন, পাসের হার ৬২.৩৭%; আর ছাত্রদের মধ্যে উত্তীর্ণদের সংখ্যা ২৮ হাজার ৩৭২, পাসের হার ৫২.৬৬%।
শ্রেণি ও বিভাগভিত্তিক ফল
বিভাগভিত্তিক ভাগে বিজ্ঞান বিভাগের ফল সবচেয়ে ভালো হয়েছে। বোর্ড জানায়:
- বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার: ৭১.৮৭%
- মানবিক বিভাগে পাসের হার: ৪৬.১২%
- ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার: ৪৮.৯১%
এ ছাড়া এবারে মোট ৫ হাজার ৭০০ জন শিক্ষাার্থী পেয়েছেন সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫; এর মধ্যে ছাত্র রয়েছে ২ হাজার ৬২১ এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯।
| শ্রেণী/উপাদান | সংখ্যা/হার |
|---|---|
| মোট অংশগ্রহণকারী | ১,৫০,০২৮ |
| মোট উত্তীর্ণ | ৬০,২৭৪ |
| গড় পাসের হার | ৫৭.৩৯% |
| জিপিএ-৫ প্রাপ্ত | ৫,৭০০ |
ফল ঘোষণা অনুষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি
ফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ জ ম রেজাউল করিম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মো. সিরাজুল ইসলাম, এবং সভার সভাপতিত্ব করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ।
কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে অংশগ্রহণ
এই বছরের পরীক্ষাগুলো ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮৮টি কেন্দ্র-এ অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন মোট ১,৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পারফরম্যান্স ও কেন্দ্রভিত্তিক ভিন্নতা আলাদা বিশ্লেষণ করে বোর্ড পরবর্তীতে প্রকাশ করে থাকতে পারে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে হাজারো ছাত্র-ছাত্রী এই ফলের প্রত্যাশায় ছিলেন। স্কুল ও পরিবারগুলো এবার মেয়েদের তুলনায় ছাত্রীদের ভালো ফল শোনায় খুশি হলেও মানবিক ও ব্যবসায়িক শিক্ষাবিভাগের রেকর্ড তুলনায় নিচু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ্যক্রম ও প্রস্তুতি পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বোর্ডের দায়িত্বশীলরা সম্ভাব্য দুর্বলতা ও পরীক্ষার মান যাচাই করে ভবিষ্যতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে পারেন।
পরবর্তী করণীয় ও শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য
ফল সংক্রান্ত আরো বিস্তারিত তথ্য, স্কোরকার্ড সংগ্রহের সময়সীমা ও আপিল পদ্ধতি সম্পর্কে বোর্ড সাধারণত নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করে। পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশবোর্ড এবং ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করবেন। ফল সংক্রান্ত কোনো অসুবিধা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।
মোট মিলিয়ে, ময়মনসিংহ বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ফল থেকে স্পষ্ট যে মেয়েরা সামগ্রিকভাবে ভালো ফলিয়েছে এবং বিজ্ঞান বিভাগে সফলতা তুলনায় বেশি। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ফল উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে—এ বিষয়ে বিদ্যালয় ও বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতি ও রিসোর্স বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন।