মাদারীপুরে বিভিন্ন নদী থেকে অনুমোদনবিহীন ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি শহরের শকুনী লেক পাড়ের মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-র সামনে এসে শেষ হয়।
প্রতিবাদে কে-কেটা অংশ নেন
মিছিলে অংশগ্রহণ করে জেলা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, গণঅধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইখতিয়ার আহমেদ ও গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি’র নেতারা। প্রান্তিক পর্যায় থেকে কথা বলেন কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার হোসেনসহ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও উদ্বেগ
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী মহল অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে নর্দমার তীরভাগ ভেঙে যাচ্ছে, ফলস্বরূপ নিকটের ফসলি জমি এবং বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের কথায়, নদীর তীরবর্তী অনেক পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
সমাবেশে উত্থাপিত দাবি
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রধানত নিম্নলিখিত Forder৮গুলি উত্থাপিত হয়—
- অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন তত্ক্ষণাত বন্ধ করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ।
- নদী থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
- নদী তীর রক্ষার ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
লোকাল অভ্যন্তরের ক্ষতি ও পরিণতি
অবৈধ বালু উত্তোলন কেবল নদীর তীর ভাঙন নয়; এটি পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত করে। নদীর পানির প্রবাহ বদলে গেলে ফসলি জমির সেচ সুবিধা নাড়া খায়, মাটির উর্বরতা কমে এবং নদীচর উৎকণ্ঠার ফলে বসতির নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে। স্থানীয়রা জানান, ইতিমধ্যেই কয়েকটি জায়গায় তীরভাগ খসে গিয়ে ফসল ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—যদিও ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ বা আর্থিক হিসাব সমাবেশে উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রত্যাশা
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তারা দাবি করেন অবৈধ কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নদী রক্ষায় পরিকল্পিত কাজ চালানো হোক। বক্তারা সতর্ক করেন, যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করা হয় তবে ভবিষ্যতে জনজীবনে স্থায়ী ক্ষতি এবং বড় ধরণের সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কী করা যেতে পারে: দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ
স্থানীয় ও প্রান্তিক স্তরে জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—
- অবৈধ ড্রেজিং শনাক্তে তৎকালীন মোবাইল টিম গঠন করা।
- নদীর তীর রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে জরুরি বাঁধ বা গঠনাত্মক কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন।
- ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের তালিকা তৈরি করে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা কার্যকর করা।
| বিষয় | উল্লেখিত তথ্য |
|---|---|
| সমাবেশ শুরুস্থল | শকুনি লেক পাড় মুক্তমঞ্চ |
| শেষস্থান | মাদারীপুর সদর মডেল থানা |
| অংশগ্রহণকারী সংগঠন | জেলা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, গণঅধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি |
মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আশায় রয়েছেন। তারা জানান, নদী প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষা করার জায়গা; এটাকে commercialভাবে ধ্বংস করা হলে এলাকার বহু মানুষ জীবিকার হুমকিতে পড়বে।
স্থানীয়রা আশা করেন জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরেকটি পরিবেশগত ও সামাজিক সংকট প্রতিরোধ করা যায়।