মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদী এলাকায় জমিজমা নিয়ে চলমান বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। নিজের দাবি অনুযায়ী পিতার ক্রয়কৃত জমির মালিকানার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভুক্তভোগী আছালাত শিকদার ও তার স্বজনরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মালিকানা ও অভিযোগের সারমর্ম
সংবাদ সম্মেলনে আছালাত শিকদার জানান, তার পিতা মৃত বছিরউদ্দিন শিকদার প্রায় ৫০ বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার শিড়খাড়া ইউনিয়নের বাহিরচর শ্রীনদী মৌজার ২৪৮১ সংখ্যক দাগের জমি ক্রয় করেন। তিনি বলেন, ঐ দাগে মোট সাড়ে ১৩ শতাংশ জমির মধ্যে তাদের অংশ সাড়ে ১০ শতাংশ, এবং বর্তমানে তারা দখলে আছেন ৯ শতাংশ; বাকি প্রায় ১.৫ শতাংশ অন্যের দখলে রয়েছে।
আছালাত শিকদার অভিযোগ করেছেন যে গত তিন বছর ধরে ওই জমির মালিকানা দাবিতে এবং দখল করে রাখা হচ্ছে, এবং প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ছেপে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে তদন্ত ও ন্যায্য সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য
ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম বেপারী ও তার ছেলে নজরুল বেপারীকে। অভিযুক্ত জসিম বেপারীর স্ত্রী মমতাজ বেগম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তারা ওই দাগে ২.৩৬ শতাংশ জমি পাবে বলে দাবী করেন এবং অভিযোগ করেছেন যে আছালাত শিকদাররা অতিরঞ্জিত দাবিতে দলিল দেখিয়ে বেশি জমির হুকুম করছেন। তিনি জানান, এই বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে এবং তিনি তার জবাব দিয়েছেন।
"২৪৮১ দাগে তারা পাবে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। কিন্তু তারা দলিল নিয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। এ নিয়ে তারা আদালতে একটি মামলা করেছেন। আমি সেই মামলার জবাব দিয়েছি,"—মমতাজ বেগম
পুলিশ ও প্রশাসনের রায়—অপেক্ষার পর্যায়ে
শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ সাজেদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধ রয়েছে। পূর্বে বিশৃঙ্খলার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিল, তবে এখনো কোন পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ইনচার্জ জানান, তারা মামলা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা ও তদন্ত চালাবে।
স্থানীয় সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের জমি বিরোধ এলাকায় সামাজিক উত্তেজনা বাড়ায় এবং প্রতিবেশীসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি—নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ন্যায়বিচার কার্যকর করার মাধ্যমে প্রতিকার না মিললে সম্পত্তি-সম্পর্কিত সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে।
- অভিযোগকারী: আছালাত শিকদার ও স্বজনরা
- অভিযুক্ত: জসিম বেপারী ও নজরুল বেপারী (জবাবদিহি দিচ্ছেন মমতাজ বেগম)
- পুলিশ কর্তৃপক্ষ: শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ইনচার্জ মোঃ সাজেদুল ইসলাম
| বিষয় | আবেদন/দাবি |
|---|---|
| জমির মোট পরিমাণ (দাবি) | সাড়ে ১৩ শতাংশ (ভুক্তভোগীদের দাবি) |
| ভুক্তভোগীদের দখল | ৯ শতাংশ (ভুক্তভোগীদের দাবি) |
| অভিযুক্ত পক্ষের দাবি | ২.৩৬ শতাংশ (মমতাজ বেগমের দাবি) |
পরবর্তী করণীয় ও পাঠকের জন্য তথ্য
বর্তমানে উভয় পক্ষের বয়ান ভিন্ন হওয়ায় প্রধান প্রতিকার রাস্তাটি হলো পরীক্ষিত দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া। স্থানীয়রা ও পক্ষদ্বয়কে পুলিশ-প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন দাখিল করে মামলা-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সামাজিকভাবে তাঁদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের ন্যায়সঙ্গত তদন্ত জরুরি বলে তারা মনে করেন।
সংবাদটি আপডেট করা হবে যখন থানায় মামলা দাখিল বা পুলিশ বা আদালত থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যাবে।