অপরাধ রাজৈর মাদারীপুর (07)

রাজৈরে মানবপাচার মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি, জিম্মি সন্তানের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার উদ্বিগ্ন

মাদারীপুর জেলার রাজৈরে মানবপাচার মামলার বাদী সিরাজ শেখ বলছেন, মামলা তুলে নেয়ার জন্য দালালচক্র তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। লিবিয়ার বন্দীশালায় আটকে থাকা কনিষ্ঠ পুত্র ইমনের কোন সন্ধান মেলেনি; পরিবারের দাবি অভিযুক্ত রবিউল শেখকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুযায়ী দণ্ড দিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দরকার।

রাজৈরে মানবপাচার মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি, জিম্মি সন্তানের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার উদ্বিগ্ন
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

মাদারীপুরের রাজৈরে মানবপাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ হওয়া তার কনিষ্ঠ পুত্র ইমন শেখকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে ও প্রধান আসামি রবিউল শেখকে দণ্ডিত করার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে বদরপাশা ইউনিয়নের হুজুরী গ্রামে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিখোঁজের বাবা সিরাজ শেখ.

সিরাজ শেখ বলেন, তাদের ছেলে ইমন শেখকে ‘‘ভালো কাজের প্রলোভন’’ দেখিয়ে ২২ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ইমনকে বন্দীশালায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে আরো একাধিক কিস্তিতে মোট ৫২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হিসেবে তিনি নাম করেছেন রাজৈরের ইশিবপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া ভোটঘরের খোরশেদ শেখের ছেলে রবিউল শেখকে।

পরিবার জানায়, প্রথমে ২২ লাখ টাকায় বিদেশ পাঠানোর কথা বলা হয়। এরপর লিবিয়ায় জিম্মি রেখে নানাভাবে বিনিময়ে আরও টাকা ধার্য করা হয় এবং ধাপে ধাপে মোট ৫০ লাখেরও বেশি টাকা নেয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, টাকা নেওয়ার পরেও ইমনের কোনো খোঁজ বা যোগাযোগ পরিবারের কাছে দেয়া হচ্ছে না।

এই ঘটনার পর গত ৫ জানুয়ারি পরিবার মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকে, বাদী বাড়ি থেকে জানিয়েছেন, দালালচক্র তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মামলা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এখন তাদের প্রাণনাশের হুমকির কথা জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিনা শর্তে সন্তানের খোঁজ দেওয়া এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

স্থানীয় পরিবেশ ও পরিবারের দাবি

বাদীর বক্তব্যে বলা হয়েছে, ঘটনার স্থান ও অভিযুক্তদের পরিচিতি নির্দিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে ইমনের কোনো খবর না পাওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন। তিনি প্রশাসনকে সজাগ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতাও চান যেন ইমনের সন্ধান দ্রুত মেলে।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মানবপাচার-নেতৃত্বশীল চক্রগুলো প্রলোভন প্রদানের মাধ্যমে এলাকাবাসীর ক্ষুদ্র আয়-র উৎসকে টার্গেট করে। দিনমজুর বা সীমিত অর্থশক্তি সম্পন্ন পরিবারের কিশোর-যুবকদের বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানাভাবে অর্থ আদায় করা হয়।

আইনি পরিপ্রেক্ষিত

পরিবারের সংবাদ সম্মেলন ও মামলার বিবরণ থেকে বোঝা যায় যে অভিযোগটি মানবপাচার সম্পর্কিত, যেখানে আর্থিক লেনদেন, জিম্মি রাখা এবং বাধ্যতামূলক কাজ-সহ নানা আইনগত দিক জড়িত। বাদী আশা করেছেন সংশ্লিষ্ট মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনাল ও পুলিশ তদন্ত করে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন বা জেলা পুলিশ কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনের সময় পাওয়া যায়নি। তবে পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, তারা প্রশাসনের কাছ থেকে তাত্ক্ষণিক সুরক্ষা এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানাবেন।

পরবর্তী করণীয় ও সতর্কতা

  • দারিদ্র্য বা কাজে প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাবে অভিভাবকরা অতিরিক্ত সতর্ক হোন।
  • অবৈধ দালালদের সাথে সরাসরি আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকুন; বিশ্বাসযোগ্য সরকারি অথবা নিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেবলই বিদেশগমন সংক্রান্ত কাজে এগোন।
  • নিখোঁজের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানায় সঙ্গে সঙ্গে মামলা ও ডায়েরি করুন এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা নিন।

নিচে কল্যাণের জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্য সারসংক্ষেপে দেওয়া হলো:

বিষয় তথ্য
নিখোঁজ ব্যক্তি ইমন শেখ
বাদী সিরাজ শেখ (পিতা)
অভিযুক্ত রবিউল শেখ (খোরশেদ শেখের ছেলে)
অভিযোগিত অর্থ মোট ৫২ লাখ টাকা (প্রাথমিক ২২ লাখ + পরে ৪০ লাখের দাবির উল্লেখ)
মামলা দায়ের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, ৫ জানুয়ারি (চলতি বছর)

এ ঘটনার পরে এলাকার মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা আরও নিরাপত্তা ও সক্রিয় তদন্তের দাবি তুলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার যদি দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনে, তাহলে তাদের ক্ষতিহীনতা ও পুনর্বাসন সম্ভব হবে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী ও কমিউনিটি নেতারা বলছেন, মানবপাচার বিরোধী প্রচেষ্টা তখনই সফল হবে যখন স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে এবং সন্দেহজনক দিকগুলো সম্পর্কে যথাসময়ে তথ্য দেয়া হবে। ওই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিবারের দাবি, ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ তাদের অনতিদ্রুত সহযোগিতা করবে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

07মাদারীপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো মাদারীপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব