মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর শেখ করিমুন্নেসা ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে কোনো নোটিশ বা প্রজ্ঞাপন দেখানো ছাড়াই সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অসন্তোষ ও উত্তেজনা
বার্তায় বলা হয়, বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে একটি ভ্যান নিয়ে সরঞ্জাম তোলা হলে স্থানীয়রা সন্দেহ করে। তারা ভ্যানসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে মালামাল সরানোর অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। তৎক্ষণাৎ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভ্যানচালকরা কাগজপত্র দেখাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সেটি কেন্দ্রেই রেখে চলে যান।
কী সরানো হচ্ছিল এবং উদ্দেশ্য
প্রতিবেদন অনুসারে, সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল একটি সিজারিয়ান অপারেশনের বেড। জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতিউর রহমান জানিয়েছেন বেডটি মাদারীপুর মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে পাঁচখোলা ইউনিয়নের হাসপাতালটি পুনরায় চালু হলে সেখানেই হস্তান্তর করা হবে। অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে বলে তিনি বলেন।
“অফিসে কাগজপত্র আছে। তবে জনগণের উপকারের কথা বিবেচনা করেই এটি নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন ও উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি কেন্দ্রের সম্পদ কোথায় যাচ্ছে এবং কেন সাধারণ মানুষের অবহিত ছাড়া এই সরঞ্জাম সরানো হচ্ছে—এসব বিষয়ে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা বা নোটিশ তাদের কাছে দেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতাল থেকে সরঞ্জাম নেওয়ার আগে স্থানীয় জনগণ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ঘটনার ক্রমানুসার
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯ আগস্ট | দুপুরে ভ্যান নিয়ে কেন্দ্র প্রবেশ; সিজারিয়ান বেড ভ্যানে তোলার চেষ্টা; স্থানীয়রা ভ্যান আটকায় এবং কাগজপত্র দাবি করে |
| একপর্যায়ে | বেডটি কেন্দ্রেই রেখে ভ্যানচালক চলে যান; পরে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বেডটি মাদারীপুর মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে নেওয়া হবে বলে জানান |
স্থানীয়দের অনুরোধ ও কৌতূহল
স্থানীয় নেতারা জানতে চান—যদি হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে বা কার্যক্রম সীমিত থাকে, তবে কেন সরঞ্জাম স্থানান্তর করছে প্রশাসন এবং পুনরায় চালুর সময়ে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকারি নথিতে কি স্পষ্ট নির্দেশ আছে কি না। তারা আরও চান, ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার আগে স্থানীয় জনগণকে এবং পরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হোক।
- প্রধান অভিযোগ: কোনও নোটিশ বা প্রজ্ঞাপন প্রদর্শন করার আগেই সরঞ্জাম সরানোর চেষ্টা।
- সরঞ্জামের ধরন: সিজারিয়ান অপারেশনের বেড।
- অধিদফতরের অবস্থান: অফিসে কাগজপত্র রয়েছে; জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সম্পর্কিত প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা
স্থানীয় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলো সাধারণত গর্ভবতী মায়েদের জরুরি সেবা ও নবজাতকের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ধরনের সরঞ্জামের অনৈতিক বা অস্পষ্ট স্থানান্তর হলে সেটি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা না থাকলে জনগণের আস্থা হতাশ হতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্থানীয় সংঘর্ষের সম্ভাবনাও বাড়ে।
আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও সম্ভাব্য পথ
এ বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের বক্তব্য থাকলেও স্থানীয়রা লিখিত ব্যাখ্যা ও সরকারি নথির অনুলিপি দেখতে চান। ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা, লিখিত নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ও স্থানীয় পরিষদে জানানোর মত উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন করলেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে কী পরিমাণ পরিষেবা সীমিত আছে বা নেই—তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। বন্দোবস্তের পরবর্তী ব্যবস্থা, কাগজপত্রের কপি এবং স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে স্থানীয়রা পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।