কুমিল্লা: কুমিল্লা নগরের ঝাউতলা এলাকার মক্কা হাসপাতালে সম্প্রতি এক মাতা ছাড়িয়া পাঁচটি নবজাতক জন্ম দিয়েছেন। তবে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চারটি নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং বর্তমানে কেবল একজনই জীবিত রয়েছেন।
পরিবার ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত নবজাতকেরা জন্মের সময় সুস্থ ছিলেন না। চিকিৎসকরা বলছেন নবজাতকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই, প্রায় ছয় মাসের মতো গর্ভকালেই পৃথিবীতে এসেছে, ফলে তাদের নিবিড় পরিচর্যা ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। হাসপাতালের উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তা সত্ত্বেও চারটি শিশু জীবিত রাখতে পারা হয়নি।
পরিবার জানান, জন্মের পর থেকেই নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ছিল। বর্তমান জীবিত নবজাতকটিকে হাসপাতালে রাখা আছে এবং তারও চিকিৎসা চলছে। পরিবার চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়ের সম্মুখীন; সরকারি সহায়তা ও জনসাধারণের দানচানার ওপর তারা নির্ভরশীল।
“শিশুটির উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও আমরা আর্থিক সংকটে রয়েছি,”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব
একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান জন্ম দেওয়া কুমিল্লায় বিরল ঘটনা হওয়ায় উচ্চমাত্রার আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে ঘটে যাওয়া বহুবিধ মানবিক ও চিকিৎসাগত প্রতিকূলতা পরিবার ও স্থানীয় সমাজকে উদ্বিগ্ন করেছে। স্থানীয়রা পরিবারকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কয়েকজন ব্যক্তি ও সংগঠন যোগাযোগ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
- জন্মবৃন্দের সংখ্যা: ৫ জন (২ ছেলে ও ৩ মেয়ে)
- জন্মের সময়কাল: আনুমানিক ছয় মাসে (প্রাক-সময়ের জন্ম)
- বর্তমান অবস্থা: ১ জন জীবিত, ৪ জন মৃত
আইনগত/প্রশাসনিক এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রশ্ন
এই ধরনের প্রাক-সময়ের একাধিক নবজাতক জন্ম ও তাদের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ঘটনা স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা ও হাসপাতালের সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। উন্নত নিউরো-ইন্টেনসিভ কেয়ার, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট ও বিশেষায়িত প্রসূতি-চিকিৎসা না থাকলে এসব শিশুকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিবার সূত্রের তথ্যে জানা যায়, মাতা চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তার স্বামী সৌদি আরবপ্রবাসী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা পরিবারকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা ও ব্যবস্থা করছে বলে তারা জানিয়েছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্মস্থান | মক্কা হাসপাতাল, ঝাউতলা, কুমিল্লা |
| জন্মসংখ্যা | ৫ (২ ছেলে, ৩ মেয়ে) |
| প্রায় জন্মকাল | ছয় মাস (প্রাক-সময়ের) |
| বর্তমান অবস্থা | ১ জন জীবিত ও চিকিৎসাধীন; ৪ জন মৃত |
এ ঘটনায় এখন যে জরুরি বিষয়টি浮ে আসে তা হলো—প্রাক-সময়ে জন্মগ্রহণকারী নবজাতকগুলোর সুষম সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা। পরিবারও জানায় তারা সরকারি সহায়তা চান এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।
এই ঘটনাটি কুমিল্লার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে কাছে থেকে স্পর্শ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও সমাজকর্মীরা কীভাবে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দিতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। কুমিল্লার মানুষের সহমর্মিতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পৌঁছালে এক শিশুরও বাঁচার সম্ভাবনা সংকটাপন্ন হতে পারে।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার কিংবা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যদি পরবর্তী ব্যবস্থা বা মন্তব্য পাওয়া যায় তা অনতিবিলম্বে পরিবেশিত হবে।
রিপোর্ট — কুমিল্লা প্রতিনিধি, WE NEWS