কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনলো অভিহিত ৬টি মোটরসাইকেল জব্দ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে চোরাচালান চক্রের সন্দেহে ৯ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা দাখিল করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেপ্তার
আটককৃতরা গত শুক্রবার দিবাগত রাতে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কের ময়নামতির কাটা জঙ্গল বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলগুলোর কাগজপত্র যাচাই করলে কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানার কাগজ পাওয়া যায়নি—পুলিশ জানিয়েছে এসবই রেজিস্ট্রেশনবিহীন।
গ্রেপ্তারদের পরিচয় ও মোটরসাইকেলের বিবরণ
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তারা ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলগুলো নিয়ে এসেছিলেন এবং এগুলো কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে ছিলেন। গ্রেপ্তার ও জব্দকৃত মালামালের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেয়া হলো।
- জব্দ মোটরসাইকেল: ৬টি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল (মডেলসমূহের মধ্যে রয়েছে Yamaha R15 ও Yamaha MT15)।
- গ্রেপ্তার সংখ্যা: ৯ জন, বিভিন্ন জেলা—সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে আটককৃতরা রয়েছেন।
- অভিযানের ধরণ: সড়কপথে চলমান চেকপয়েন্টে থামিয়ে জব্দ ও আটক।
| নাম | বয়স | থানা/গ্রাম (উৎস) |
|---|---|---|
| কামিম আহম্মদ | ২৮ | গোয়াইনঘাট, কচুয়ারপাড় |
| আ. করিম | ৩০ | কোতোয়ালি থানা, শাহী ঈদগা |
| সাইদুল ইসলাম | ২২ | সুনামগঞ্জ সদর, পুরাতন গদিগাঁও |
| পাবেল আহম্মদ | ২৬ | জালালাবাদ থানার নলকট |
| হোসাইন | ২৩ | জালালাবাদ |
| রিপন চন্দ্র দাস | ২৯ | দিরাই, সুনামগঞ্জ |
| রাজু আহম্মদ | ২৮ | কোতোয়ালি থানা |
| আবিদুল ইসলাম | ২৮ | ছাতক, সুনামগঞ্জ |
| কাওছার হোসেন | ২৬ | গোয়াইনঘাট |
পুলিশের মন্তব্য
"এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা করা হয়েছে। চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
এই মন্তব্যটি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ মো. শামসুল আলম শাহ করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক ধাঁচে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি সুসংগঠিত চক্র নিয়ম রক্ষা না করে ভারতের সীমান্ত হয়ে দেশে মোটরসাইকেল এনে বিক্রি করে আসছিল।
স্থানীয় প্রভাব ও অনুসন্ধান
বুড়িচং এলাকায় এমন ধরণের চোরাচালান নীরবপন্থায় বাড়লে স্থানীয় বাজারে হস্তান্তরিত মোটরসাইকেলের দাম-নিয়ন্ত্রণ এবং কর-বাণিজ্য ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। অন্যান্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অনুরূপ মোটরসাইকেল সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সতর্ক রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে জানান আইনপ্রয়োগকারী আধিকারিকরা।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এখনো এই চক্রের উপরে আরও অনুসন্ধান চলছে—কেউ কি ক্রেতা হিসেবে জড়িয়ে আছে, বা কোন সাপ্লাই-চেইন ব্যবহার করে এসব গাড়ি আনা হচ্ছিল তা নির্ণয় করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে প্রত্যর্পণের পর গঠিত মামলার মধ্যে দিয়ে আইন অনুযায়ী বিচারের সম্মুখীন হবেন।
যেসব তথ্য সাধারণ নাগরিকের কাজে লাগবে
- মোটরসাইকেল কেনার আগে রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানার কাগজপত্র বাধ্যতামূলক যাচাই করুন।
- শ্বেয়ার করা শূন্যমূল্যে বা অস্বাভাবিকভাবে সস্তা আরোহন সামগ্রী সম্পর্কে সন্দেহ হলে স্থানীয় থানায় জানান।
- যদি কেউ সন্দেহজনকভাবে বিদেশি সূত্রে আনা যানবাহন বিক্রি করতে আসে, তার নথিপত্র জেলা ট্রাফিক/পুলিশ অফিসে যাচাই করুন।
ঘটনাটির তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ বলছে—চক্রের অন্যান্য সদস্যকে গ্রহন করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কুমিল্লা থেকে রিপোর্টিং করেছি।