চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানে প্রথম দিনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ কর্মসূচি চালানো হয়েছে চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস বাজার অঞ্চল থেকে শুরু করে কবে পর্যন্ত—লালমাই পর্যন্ত তিন দিন ধরে পর্যায়ক্রমে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিযানের কারণ ও কার্যক্রম
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চাঁদপুর শাখা ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কার্যক্রমের লক্ষ্য— সরকারি জমি দখলমুক্তকরণ, মহাসড়কের প্রশস্ততা ফিরিয়ে আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়মিত যানজট কমানো। প্রথম দিন (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওয়ারলেস বাজার অব্দি অভিযান চলে। পরে চাঁদপুর-কুমিল্লা-ফরিদগঞ্জ মহাসড়কের একাধিক পয়েন্টে উচ্ছেদ কাজ করা হয়েছে।
উচ্ছেদে চিহ্নিত স্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সওজ বিভাগ জানিয়েছে, খাজুরিয়া থেকে বর্ডার মার্কেট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে মোট প্রায় শতাধিক নয়—চিহ্নিত অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে বেশি; সড়কসহ এলাকাগুলোতে মোট ছয় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থাপনা দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠায় মহাসড়কের প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল এবং বাজার এলাকায় নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল।
“মহাসড়কের জমি দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের পূর্বেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের তোয়াক্কা না করায় নির্ধারিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” — সওজ চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলী
নির্মিত স্থানগুলো উচ্ছেদ করে উদ্ধারকৃত সরকারি জমিকে পুনরায় যেন দখল na হয়—তার জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলিতে পরিবেশগত ও চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাছরোপণসহ কিছু প্ল্যান করা হয়েছে। সওজ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সরকারের 'পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ' কর্মসূচির আওতায় গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব এবং প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ
অভিযানকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনিক পক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জায়গাগুলো নিয়মিত যানচলাচলের সাথে যুক্ত করে প্রধান সড়কের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হবে যাতে যানজট প্রবণ এলাকার চাপ কমে। বিশেষ করে বাবুরহাটের মতো তীব্র যানজটপ্রবণ অংশে উদ্ধারকৃত জায়গা মূল সড়কের সাথে যুক্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হবে।
- অভিযানের মেয়াদ: তিন দিন (ধাপে ধাপে চলবে)
- প্রথম দিনের উচ্ছেদ: বিভিন্ন অংশে প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে
- চিহ্নিত মোট অবৈধ স্থাপনা: খাজুরিয়া থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক
উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের দৈনন্দিন চলাচলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা সময় বলবে। প্রশাসনিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হলে রাস্তায় সরাসরি প্রকৃত চলাচলের সুবিধা বাড়বে এবং যানজট নিরসনে সহায়তা মিলবে।
| বিষয় | সংখ্যা / সময় |
|---|---|
| প্রথম দিনের উচ্ছেদ | প্রায় দুই শতাধিক স্থাপনা (মূল প্রতিবেদন অনুযায়ী) |
| চিহ্নিত অবৈধ স্থাপনা (খাজুরিয়া–বর্ডার মার্কেট) | প্রায় ছয় শতাধিক |
| অভিযানের কার্যকাল | তিন দিন (ধাপে ধাপে চালু) |
স্থানীয় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ব্যবহারের দিকগুলো নিয়েও প্রশাসনিক পর্যায় থেকে নোটিশ ও পূর্বঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে সওজ সূত্র নিশ্চিত করেছে। কিন্তু নোটিশ মানা না হওয়ায় উচ্ছেদ অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের কাছে এই অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল কীভাবে মানানসই হয়—এ বিষয়েও নজর রাখা হবে।
রিপোর্টার: কুমিল্লা থেকে সংবাদ পরিষেবা।