কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালত বুধবার দুই দশকের বেশি সময় পর একটি বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। মামলাটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত, বলে কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক তথ্য নিশ্চিত করেন।
রায়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
আদালত সিদ্ধান্তে নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার কলমিডাঙ্গা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও গাজীপুরের শ্রীপুর থানার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা-কে (প্রচলিত নামগুলি মামলার কাগজপত্রে উল্লেখিত) করা হয়েছে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড. একই মামলায় অপর আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার (রানী)-কে দেওয়া হয়েছে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার মূল বিবরণ ও তদন্তে জড়িত সংস্থা
আদালতে উল্লিখিত নথি অনুযায়ী, ঘটনা ঘটে ২০০৬ সালের মার্চে কুমিল্লা নগরের বিষ্ণুপুর এলাকায়। তখনকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৭ (র্যাব-৭) পরিচালিত অভিযানে একটি বাড়ি থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য এবং বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত নানা উপকরণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার তালিকায় উল্লেখ রয়েছে ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টেস্ট টিউবসহ একাধিক রাসায়নিক পদার্থ ও সরঞ্জাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়, তৎকালীন র্যাব সদর দপ্তরের হেফাজতে থাকা একজন নেতার জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে বিষ্ণুপুর এলাকায় ওই সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব অভিযান চালায়। অভিযানের পর কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা বিভাগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং মামলার দীর্ঘ বিচারকাজের মধ্যে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
বিচারের প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ
বিচার চলাকালে কোর্টে মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে জব্দ তালিকা, জবানবন্দি, উদ্ধারকৃত উপকরণ ও অন্যান্য সহায়ক নথি। এগুলো পর্যালোচনা করে এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য শোনার পর বিচারক দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন।
- অভিযোগ: বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও জেএমবির সাথে সম্পর্ক
- অনুসন্ধানকারী সংস্থা: র্যাব-৭
- সাক্ষীর সংখ্যা: ১৩
কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক জানিয়েছেন— রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তরা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রায়ের প্রভাব ও স্থানীয় প্রসঙ্গ
ঘটনাটি তার সময় কুমিল্লায় ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল। মামলার দীর্ঘতা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ও বিচার প্রক্রিয়ার জটিলতা তুলে ধরে। রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ জীবন ও পরিবারের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে; একই সঙ্গে ওই ঘটনাস্থল এবং আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে অতীতের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোর পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে।
| আসামির নাম | বংশীয় স্থান (মামলার নথি অনুযায়ী) | সাজা |
|---|---|---|
| মো. মোস্তাফিজুর রহমান | নওগাঁ, সাপাহার (কলমিডাঙ্গা) | ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| মোহাম্মদ দুরুল হুদা | গাজীপুর, শ্রীপুর (চকপাড়া) | ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| খালেদা আক্তার (রানী) | — (দুরুল হুদার স্ত্রী) | ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
রায়ের বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর ও র্যাব-৭-এর যে মন্তব্য কোর্টে উপস্থাপিত হয়েছে, সেগুলোও মামলার মূল যুক্তি শক্ত করে তোলে বলে আদালত বিবেচনা করেছে। মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন থাকায় একাধিকবার সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথি পর্যালোচনা হয়েছে—এগুলো বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রায়ের সিদ্ধান্তে প্রাধান্য পেয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারে অথবা নিরাপত্তার আরও কড়াকড়ি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে পারে; তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও প্রভাব কেমন হবে তা এখন থেকেই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
রুবিনা আক্তার, কুমিল্লা প্রতিনিধি, WE NEWS