দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগে ৮৫ বছর বয়সি মোহাম্মদ আলীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনার তদন্তে র্যাব—৯ ও র্যাব—১১ যৌথ অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা থেকে আরও একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম জিয়াউর রহমান (৩২), যিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার হাবিবনগর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে এবং মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামী।
কীভাবে ঘটে ঘটনা
র্যাবের তৎপর অনুসন্ধান ও মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে যে, নিহত মোহাম্মদ আলীর জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তার ছেলে ও পুত্রবধূ। মামলায় নাম থাকছেন ইসমাইল মিয়া (৫ নম্বর বিবাদী) এবং পুত্রবধূ হোছনা বেগম (১ নম্বর বিবাদী)। পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও কলহ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইসমাইল মিয়া ও হোছনা বেগম যখন জমি নিয়ে আলমদন্তে বাধ্য করতে পারেনি, তখন পুত্রবধূ পরিকল্পনা করেন এবং এক স্থানীয় ব্যক্তি রুহুল আমিনকে (২ নম্বর বিবাদী) সঙ্গে নিয়ে ঘটনার জন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করেন।
ঘটনার রাত ও মামলার ধরণ
আওগত বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট গভীর রাতে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম (৩ নম্বর বিবাদী) ও জিয়াউর রহমান (৪ নম্বর বিবাদী) হোছনা বেগমের সহযোগিতায় নিহতের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এরপর নিহতের নাতনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং—২৪; তারিখ: ১৬/০৮/২০২৬)।
- নিহত: মোহাম্মদ আলী, বয়স ৮৫ — সোনাপুর গ্রাম, দোয়ারাবাজার
- মামলা দায়ের: ১৬ আগস্ট ২০২৬, দোয়ারাবাজার থানা (নম্বর ২৪)
- প্রধান অভিযুক্তদের সংখ্যা: মামলায় এজাহারনামীয় চার আসামি
র্যাব অভিযান ও গ্রেপ্তার
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ আগস্ট রাতে র্যাব—৯ (সিপিসি—৩, সুনামগঞ্জ) ও র্যাব—১১ (সিপিসি—২, কুমিল্লা) যৌথ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন বাজগড্ডা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়াউরকে গ্রেপ্তার করে। এ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার এজাহারনামীয় চারজন আসামিকেই আইনগত আওতায় আনা হয়েছে বলে র্যাব জানায়।
“গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে,”
র্যাব—৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে, অপরাধ দমন ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৪ আগস্ট ২০২৬ | রাতের সময় মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার ঘটনা |
| ১৬ আগস্ট ২০২৬ | নাতনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় হত্যা মামলা (নং-২৪) দায়ের |
| ১৮ আগস্ট ২০২৬ | র্যাব—৯ পূর্বে তিন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল |
| ২৮ আগস্ট ২০২৬ | কুমিল্লা থেকে জিয়াউর রহমান গ্রেপ্তার ও সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর |
স্থানীয় প্রভাব ও অনুসন্ধান
জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক কলহ থেকে হওয়া এই হত্যাকাণ্ড এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও ঘনিস্ট পরিজন থাকায় স্থানীয় সামাজিক ভিত্তিও কেঁপে উঠেছে। র্যাব জানায় তারা ছায়া তদন্ত শুরু করার পর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় চারজন আসামিই আইনের আওতায় এসেছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ে কাজ করছে র্যাব। আদালতে অভিযোগ দাখিল ও বিচারিক প্রক্রিয়া এগোলে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নজর রাখছি—স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আপডেট পেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অবহিত করা হবে।