কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বাইপাস সংলগ্ন ঢালুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেলে গণজমায়েত ও প্রতিবাদ মিছিলে বাঁধভাঙা সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রদলের কয়েক নেতা ও সমর্থকসহ অন্তত দশ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে গুরুতরভাবে আহত তিনজনের মধ্যে এক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পরিচিত নাম
পুলিশি রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেলে ঢালুয়া বাইপাস এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে সে দিন বিএনপির একটি মিছিল বের করলে সেখানে সংঘর্ষের ঝুঁকি দেখা দেয় এবং বিএনপি নেতা আজাদ হোসেন আহত হন। শনিবার নয়—প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা ছাত্রদল ও স্থানীয় যুবদল নেতারা একটি প্রতিবাদ মিছিল প্রস্তুত করছিলেন।
প্রতিবাদ মিছিল পাতানোর সময় কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থক বলে পরিচিত একটি গ্রুপ আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। হামলার নেতৃত্ব দেন স্থানীয় যুবদল নেতা আব্দুল মমিন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত ছিল পাইপ ও লাঠি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আহত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সংবাদ
- আহতদের নাম (সূত্রে উল্লেখিত): মাহফুজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, ইব্রাহীম খলিল, আমির হামজা মুন্না, গিয়াসউদ্দিন।
- গুরুতর আহত: আমির হামজা মুন্না এবং অন্যান্য কয়েকজনকে প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।
- উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর: আমির হামজা মুন্নাকে অবস্থার সংকটাপন্ন হওয়ায় কুমিল্লা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময় এবং সেখানে চিকিৎসা চলাকালে আমির হামজা মুন্না আবারও একই দলের সদস্যদের মারাত্মক হামলার শিকার হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য
স্থানীয়দের দাবি, হামলায় মসজিদের নামাজরত মুসল্লির ওপরও আক্রমণ করা হয় এবং কয়েকজন নামাজরত আহত হয়েছেন। আহতদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
"গতকাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলায় বিএনপি নেতা আজাদ আহত হয়েছে। কিন্তু আজ কী হয়েছে এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।"
এ মন্তব্যটি কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বরাতেই রিপোর্টে রাখা হয়েছে। অপরদিকে যুবদল নেতা আব্দুল মমিনের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানা যায়।
পুলিশি ব্যবস্থা ও পরবর্তী পরিস্থিতি
অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা আহতদের কাছে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। পুলিশি বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ সময় মতো কোন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নির্বাহী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
| নাম | পদবী/সংক্রামকতা | চিকিৎসা ও অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|---|
| মাহফুজুর রহমান | উপজেলা ছাত্রদল— সভাপতি প্রত্যাশী | সংঘর্ষে আহত, স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা |
| আমির হামজা মুন্না | উপজেলা ছাত্রদল নেতা | গুরুতর আহত, কুমিল্লা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ |
| শহিদুল ইসলাম, ইব্রাহীম খলিল, গিয়াসউদ্দিন | স্থানীয় নেতা/সমর্থক | আকস্মিক হামলায় আহত |
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতির উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপি ও সমর্থকরা ঘটনার নিন্দা করে বিচারের দাবি তুলেছেন, অপরদিকে সম্পর্কিত পক্ষের বক্তব্যও প্রার্থিত হলেও পাওয়া যায়নি। কুমিল্লার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনার পর নাঙ্গলকোট ও আশেপাশের এলাকায় রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ও মিছিলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে কয়েকজন সমাজকর্মী। আহতদের চিকিৎসা ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পর্কে কোন আনুষ্ঠানিক তথ্য পেলে আপডেট দেওয়া হবে।
রিপোর্ট — কুমিল্লা প্রতিনিধি, WE NEWS