কুমিল্লা নগরীর সঙ্গে মেলবন্ধনকারী তিনটি প্রধান প্রবেশপথের জট ও অবস্থা দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলেই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। টমছমব্রিজ-কোটবাড়ী, ধর্মপুর-জাগুরঝুলি এবং শাসনগাছা-আলেখারচর সড়কে বড় বড় গর্ত, ফাটল এবং স্থানীয়ভাবে অস্থায়ী মেরামত সীমাহীন কাঁটামালার মতো কাজের ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই সমস্যার মুখে পড়ছেন।
দৈনন্দিন যাতায়াত আটকে যাচ্ছে
সড়কগুলোর বেশ কিছু অংশে বিচ্যুতি, খানাখন্দ এবং জলোচ্ছ্বাসের কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাস ও মালবাহী যানবাহন চলাচলের সময় সচরাচর দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, গর্তে ইট-খোয়া দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভরাট করা হলেও বৃষ্টি হলে তা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়, ফলে প্রতিনিয়তই নতুন সমস্যা তৈরি হয়।
কিছু ক্ষতচিহ্ন ও প্রভাব
- টমছমব্রিজ-কোটবাড়ী সড়ক: রামমালা থেকে কোটবাড়ী বিশ্বরোড পর্যন্ত গোবিন্দপুর, দৌলতপুর, দিদার মার্কেট ও ধনপুর এলাকায় বড় বড় গর্ত দেখা গেছে।
- ধর্মপুর-জাগুরঝুলি সড়ক: সাতোরা এলাকায় গর্ত ও জলাবদ্ধতার সমস্যা, বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়।
- শাসনগাছা-আলেখারচর সড়ক: রেলওভারপাসের পশ্চিম পাশের বড় গর্তের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায়ই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও আর্থসামাজিক প্রভাব
প্রতিদিন হাজার-হাজার লোক এই সড়কগুলো ব্যবহার করে কাজ, ব্যবসা ও শিক্ষার জন্য। সড়কের ঘাটতি কেবল ভোগান্তি নয়, বরং সময় ও ইন্ধন খরচ বাড়াচ্ছে এবং ছোট ব্যবসায়ীদের মুল্য বৃদ্ধি করছে। পথ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন। স্কুল-কলেজের যানবাহন ও বেসরকারি পরিবহনের শ্রমিকরাও কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপথের প্রতিক্রিয়া
সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এই সড়কগুলোর ক্ষতচিহ্ন সম্পর্কে জানান যে টমছমব্রিজ-কোটবাড়ী সড়কের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে এবং বৃষ্টির প্রকোপ কমলে কাজ শুরু করা হবে। অন্যান্য দুই সড়কও নজরে আছে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
"টমছমব্রিজ-কোটবাড়ী সড়কের সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বৃষ্টির প্রকোপ কমলে কাজ শুরু করা হবে। ধর্মপুর-জাগুরঝুলি ও শাসনগাছা-আলেখারচর সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশও নজরে রয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।"
আশা ও বাস্তবতার মধ্যখানে
সওজ কর্মকর্তার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা বলছেন, গতকালের অস্থায়ী সংস্কারের অভিজ্ঞতা দেখেছে বরাদ্দ থাকলেও কাজে গতি দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীবৃন্দ আশা করছেন, বরাদ্দ বাস্তবায়ন দ্রুত হলে মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই স্থায়ী সংস্কার করা যাবে। অন্যদিকে অনেকে মনে করছে, বরাদ্দের পাশাপাশি স্যানিটেশন, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও সেতু-ওভারপাসের তত্ত্বাবধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ রিকনস্ট্রাকশন প্ল্যান প্রয়োজন।
কীভাবে উদ্বেগ কমানো যাবে
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত অস্থায়ী মেরামত ও সুচিকিৎসা না করা হলে বৃষ্টিতে সেই কাজ নষ্ট হয়ে যাবে। তাদের পরামর্শগুলো হলো:
- বৃষ্টিকালীন সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসন ও স্থায়ী নড়াচড়া-সহ রাস্তাসমূহের নকশা করা।
- বরাদ্দ পাওয়া মাত্র কাজ শুরু করে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ সংস্কার করা।
- নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও স্থানীয় জনগণের অভিযোগ বেগবান রাখার জন্য মনিটরিং টিম স্থাপন।
| সড়ক | সমস্যার ধরন | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| টমছমব্রিজ-কোটবাড়ী | বড় বড় গর্ত, খারাপ পেইভিং | বরাদ্দ পাওয়া গেছে; বৃষ্টি কমলে কাজ শুরু |
| ধর্মপুর-জাগুরঝুলি | গর্ত ও জলাবদ্ধতা | ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নজরে আছে; বরাদ্দ অপেক্ষা |
| শাসনগাছা-আলেখারচর | ওভারপাসপাশে বড় গর্ত, যানজট | ক্ষতিগ্রস্ত; বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু |
নগরবাসী আশা করেন, পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী সংস্কার হলে দৈনন্দিন ভোগান্তি কমবে এবং সড়কসংক্রান্ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে। সওজ প্রশাসনের বরাদ্দ বাস্তবায়ন কখন শুরু হবে এবং স্থানীয়দের কষ্ট কবে লাঘব হবে, তা নিঃসন্দেহে আগামী কয়েক সপ্তাহে নজরদারির বিষয় হয়ে থাকবে।